আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওমানের মাসান্দাম উপদ্বীপের উপকূলে রবিবার একটি তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পালাউয়ের পতাকাবাহী ওই ট্যাঙ্কারে হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার।
তবে জাহাজটিতে ঠিক কীভাবে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হামলার শিকার হওয়া ওই জাহাজটির নাম স্কাইলাইট।
ওমান মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টারের তথ্যমতে, মাসান্দামের খাসাব বন্দরের উত্তর দিকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর জাহাজটির ২০ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আহত চারজনের আঘাতের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। জাহাজটির ক্রু-দের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় ও পাঁচজন ইরানি নাগরিক রয়েছেন।
এই হামলার কিছু আগে ওমানের আরব সাগর উপকূলে অবস্থিত বাণিজ্যিক দুকম বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দুটি ড্রোন আঘাত হানায় সেখানে এক প্রবাসী শ্রমিক আহত হন।
এছাড়া আরেকটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি ট্যাঙ্কের কাছাকাছি এলাকায় পড়লেও ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ওমান বা তার আশপাশের এলাকায় এই প্রথম কোনও পরিবহণে হামলার ঘটনা ঘটল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। জাহাজ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাঙ্কট্র্যাকার্স ডট কম জানিয়েছে, স্কাইলাইট একটি ছোট আকারের ট্যাঙ্কার, যা মূলত অন্যান্য জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হত।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি মাসান্দাম এলাকায় নোঙর করে ছিল। এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, স্কাইলাইট রেজিস্টার্ড রয়েছে সি ফোর্স আইএনসি-র নামে।
তবে জাহাজটি পরিচালনা করে রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সংস্থা। তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির তরফে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রেড সি শিপ ম্যানেজমেন্ট ও স্কাইলাইটসহ কয়েকটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অভিযোগ করা হয়, ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের জন্য একটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ পরিচালনা করা হচ্ছিল। ওমানের মাসান্দাম উপদ্বীপ ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যা এটিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত করে।
