আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন এক কাঠামোর আওতায় ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার অনুমতি দিতে প্রস্তুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হাউসের তরফে।
মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে এমনটাই। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা বাণিজ্যের কিছুটা অংশ পুনরায় সূচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আমদানি পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত কি না—এই প্রশ্নের জবাবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে স্পষ্টভাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রস্তুত।’
তবে তিনি জানান, চূড়ান্ত কাঠামো ও শর্তাবলি এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রায় সব দেশকেই’ ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির বিষয়ে উন্মুক্ত মনোভাব পোষণ করছে।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট জানান, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থার আওতায় ভেনেজুয়েলার তেল আবার বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তেল বিক্রির অনুমতি দিচ্ছি। তবে গোটা প্রক্রিয়াটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তৈরি কাঠামোর আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে। অর্থ নির্দিষ্ট হিসাবে জমা হবে।’
উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে ভারত ছিল ভেনেজুয়েলার অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। নতুন করে ফের ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনতে পারলে ভারতের জ্বালানি আমদানি নতুন রাস্তা দেখবে।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে রাইট জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মজুত থাকা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উৎপাদন থেকেও তেল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে তেল বাণিজ্যের একটি অংশকে নতুনভাবে রূপ দিতে পারে।
তবে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রই থাকবে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একটি নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন ও বিক্রি করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যা আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, আমরা তা ফিরিয়ে নিচ্ছি।’ ট্রাম্প জানান, তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, বৃহৎ পরিমাণে তেল মজুত থাকা এই দেশটির উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, অব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার তেল পুনরায় রপ্তানির প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটন কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। কোন কোম্পানিকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে, তা সরকারই নির্ধারণ করবে।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত তেল পরিকাঠামো মেরামত এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই।
উল্লেখ্য, বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা ও পরিবহণের জটিলতার কারণে ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল স্থলভাগে ট্যাঙ্ক ও জাহাজে আটকে রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যদিও সীমিত পরিসরে কিছু রপ্তানি বাইরের ক্রেতাদের কাছেও ছাড়া হবে।
