আজকাল ওয়েবডেস্ক: সস্ত্রীক নিকোলাস মাদুরো এখন আমেরিকার হাতে বন্দি। খনিজ তেল সমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলাও ট্রাম্পের দখলে। এই আবহে ফের পরোক্ষে ভারতকে হুমকি দিতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের উপর তিনি আরও শুল্ক চাপাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন আমি খুশি নই।' তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী 'বন্ধু' মোদির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তারপরই সুর চড়িয়ে বলেছেন, "প্রদানমন্ত্রী মোদি খুব ভাল মানুষ। তবে তিনি জানতেন আমি সন্তুষ্ট নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবার আমরা খুব দ্রুত ওদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি।"
গত বছর ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়েছিলেন দ্বিগুণ হারে। তিনি ভারতের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য জরিমানা বাবদ অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান। ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫ শতাংশ। এর ফলে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক হুঁশিয়ারি এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সপ্তাহ খানেক আগে তাঁর টেলিফোন বার্তালাপের পর। সেই আলোচনায় দুই নেতা শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে জোরদার গতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন। এই ফোনালাপটি সেদিনই হয়েছিল, যেদিন ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে নতুন দফার আলোচনা শুরু হয়েছিল।
এর কয়েকদিন আগে অবশ্য ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে জানানো হয় ভারত চিন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সবটা শুনে ট্রাম্প তাঁর অর্থসচিব স্কট বেসেন্টকে জিজ্ঞাসা করেনছিলেন, "ভারতকে কেন এটা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? তাদের শুল্ক দিতে হবে। চালের ওপর কি তাদের কোনও ছাড় আছে?"
বেসেন্ট যখন তাঁকে বলেন যে, একটি বাণিজ্য চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তখন ট্রাম্প যোগ করেন, "কিন্তু তাদের [ভারতের] এটা করা উচিত নয়... আমরা এর সমাধান করব। শুল্ক দুই মিনিটের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দেয়।"
শুল্ক অচলাবস্থা নিরসনে বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা থমকে গিয়েছে। কারণ ওয়াশিংটন মার্কিন কৃষি পণ্যের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ ঠেকাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে নয়াদিল্লি দেশের কৃষি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য রক্ষা করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে।
