আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন মুলুকের আক্রমণ। চর্চা বিশ্বজুড়ে তা নিয়েই। ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি। এবার এক সময়ের বন্ধু ইলন মাস্কও দাঁড়ালেন একেবারে বিপরীত অবস্থানে।
মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক রবিবার জানিয়েছে, সংস্থাটি ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, বিনামূল্যে ভেনেজুয়েলার বাসিন্দাদের নেট পরিষেবা দেবে। যাতে সংযোগ অব্যাহত থাকে। ইলন মাস্কও এক্স হ্যান্ডেলে স্টারলিঙ্ক-এর ওই পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন 'ভেনেজুয়েলার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে।'
শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস এবং আশেপাশের অঞ্চলে একাধিক সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত “গুরুতর সামরিক আগ্রাসন” এবং এটি ভেনেজুয়েলার “ভূমি ও জনগণের সার্বভৌমত্বর” বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেশ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, হামলার বিস্তারিত বিবরণ জানানো হবে মার-এ-লাগোতে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে। এই পোস্টের পরই ভেনেজুয়েলার সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে মাদুরোর ছবিও প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন মুলুক।
শনিবার ভোররাতে কারাকাসে বিমান হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এক রাষ্ট্রপ্রধানের অপর রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তারের ঘোষণায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্বরাজনীতিতেও। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর দু'টো থেকে কারাকাস জুড়ে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর আসার পরেই এই দাবিটি করা হয়। বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণে শহরের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে, মাথার বেশ নীচ দিয়ে বিমান উড়তে দেখা যায়, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারপরেই নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ভেনেজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার উপর হামলা চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
অন্যদিকে, মাদুরোর অবর্তমানে, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার শনিবার রায় দিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, রড্রিগেজ প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ভেনেজুয়েলার বলিভারিয়ান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করবেন। যদিও দায়িত্ব পেলেই সস্ত্রীক মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। ডেসলি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।' অন্যদিকে, ট্রাম্পের 'আমেরিকাই ভেনেজুয়েলা চালাবে' মন্তব্যের বিরোধিতা করে সুর চড়িয়েছেন ডেসলি। সাফ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, 'আমরা কখনও কারও দাসত্ব করব না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ আর আমরা হব না।'
