আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়ার কথা। যুদ্ধবিরতি ও পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতি আনাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। তবে আলোচনার আগেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইজরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে হামলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই জলপথ দিয়ে এখনও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং আগের দফার আলোচনাও তাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


বৈঠকের আগে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করবে। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি—এই দুই বিষয়েই ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করছে ওয়াশিংটন।


ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি তুলবে। চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তবে পরিস্থিতি এখনও জটিল। ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লার মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, শনিবার ইজরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লার ৮০টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে বহু জঙ্গিকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে চারজন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে।


এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহণ হয়। জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ইরান প্রণালী বন্ধের দাবি করলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবারও ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক সফল হলে উত্তেজনা অনেকটাই কমতে পারে। তবে লেবাননে সংঘর্ষ, হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েক দিনের আলোচনার ফলাফল শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কই নয়, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং গোটা মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।