আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বভাবসুলভ অনিশ্চয়তা বজায় রাখলেন প্হরেসিডেন্ট ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত নয়। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, তেহরান যদি ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তবে তিনি আবারও ইরানে বোমা হামলা শুরু করতে পারেন! সুইজারল্যান্ডে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্বাক্ষরের মাত্র দু'দিন আগে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প চুক্তির ভঙ্গুর দশাকে তুলে ধরেছেন।
কী বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "এটি চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার এটি পছন্দ না হয় বা তারা (ইরান) যদি ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সোজা তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলা শুরু করব... কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা খারাপ আচরণই করে আসছে।"
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর থেকেই নিজের ইরান চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আসা ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি "বিশ্বব্যাপী এক অর্থনৈতিক মন্দা" রোধ করেছেন। যার পক্ষে কিছু "বোকা লোক" কথা বলছিল। তবে কাদের তিনি "বোকা" বলে অভিহিত করেছেন, সে বিষয়ে খামখেয়ালি স্বভাবের এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এরপর প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ (এমনকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও) ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি নিশ্চিত করতে পারতেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ কথাও উল্লেখ করেন যে, ওবামা ইরানের পেছনে "কয়েক শো কোটি ডলার" ব্যয় করেও পারেননি। ট্রাম্প বলেন, "তিনি (ওবামা) তাদের (ইরানিদের) কয়েক শো কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছিলেন... তিনি তাদের নগদ ১.৭ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক থেকে সরাসরি নগদ অর্থ বোয়িং ৭৫৭ বিমানে তুলে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।"
ট্রাম্প আরও বলেন, "ইরানিরা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করত এবং বলত, 'সে একটা বোকা হারামজাদা'।"
মার্কিবন প্রেসিডেন্ট ফের উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী "ইতিমধ্যেই আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে" এবং "আগামী এক-দু'দিনের মধ্যেই তা পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে"।
ইরানের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করছেন ট্রাম্প:
জি-৭ সম্মেলন শুরুর ঠিক একদিন আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের একটি রূপরেখা ঘোষণা করে। এই যুদ্ধ পুরো মধ্য এশিয়াকে গ্রাস করেছিল এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রবাহকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। চুক্তিটির বিস্তারিত তথ্য খুব একটা জানা না গেলেও, এতে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কাতারকে সঙ্গে নিয়ে এই চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করা ইরান ও পাকিস্তান জানিয়েছে যে, সমঝোতায় লেবাননে চলমান সব ধরনের লড়াই অবিলম্বে বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইজরায়েলের জন্য অত্যন্ত অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তির ফাঁস হওয়া একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানকে কোনও বিধিনিষেধ ছাড়াই তাদের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। সংবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে। তবে ট্রাম্প এই চুক্তি বা সমঝোতায় কোনও পুনর্গঠন তহবিল থাকার বিষয়টি জোরালভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা এর জন্য ১০ সেন্টও দিচ্ছি না। আমরা কোনও বিনিয়োগ করছি না এবং আমাদের এমন কোনও তহবিলও নেই।"















