আজকাল ওয়েবডেস্ক: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াাপাড়া গ্রামে সম্প্রতি ঘটেছে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। শনিবার সকালে মৃত্যুর পর নিয়ম মেনে কবর দেওয়া হয়েছিল ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা হালিমা বেগমকে। কিন্তু কবরের প্রায় ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর হঠাৎই রাতদুপুরে কবর খুঁড়ে তাঁর লাশ তুলে আনে পরিবারের সদস্যরা। অলৌকিক এই বিশ্বাস থেকে পুরো পরিবারে এবং এলাকায় শুরু হয় তুমুল শোরগোল।

ঘটনার নেপথ্যে ছিল এক অদ্ভুত ও অন্ধবিশ্বাসের কাসুন্দি। কবরের পর হালিমা বেগমের দুই সন্তান হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং নিজেদের জিনে ধরা বলে দাবি করতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল, জিনের মারফতে তাঁরা বার্তা পেয়েছেন যে তাঁদের মা আসলে কবরের ভেতর এখনও জীবিত আছেন। এই অন্ধবিশ্বাসে ভর করেই রাতের অন্ধকারে পরিবারের সবাই মিলে কবরস্থান থেকে লাশ তুলে ফেলেন। এরপর জীবিত প্রমাণের আশায় লাশটি নিয়ে ছুটে চলেন মেলান্দহ ও জামালপুর শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। চিকিৎসকদের চূড়ান্ত নিদানের পর অবশেষে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনা হয় নিথর দেহটি। অন্ধবিশ্বাস ও গুজবের বশে ঘটে যাওয়া এই কাণ্ড পুরো এলাকায় মারাত্মক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে এই অদ্ভুত ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কেউই।