আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানি সরকার দেশব্যাপী খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজনের ফাঁসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রথম সে দেশে কোনও প্রতিবাদীকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হবে। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হতে চলেছেন। সে দেশে এক পক্ষের আশঙ্কা, বুধবারেই অর্থাৎ আজই মৃত্যদণ্ডকার্যকর হতে পারে সোলতানির।
গ্রেপ্তারের পর থেকে সোলতানিকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ-সহ মৌলিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে কোন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে, সেই পরিচয়-সহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সম্পর্কে তাঁর পরিবারকেও অন্ধকারে রাখা হয়েছে। হেঙ্গাও অর্গানাইজেশনকে উদ্ধৃত করে জেফিড জানিয়েছে, সোলতানির পরিবারকে ১১ জানুয়ারি জানানো হয় যে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই শাস্তির কথা জানার পর পরিবারকে তাঁর সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এই মুহূর্তে এই ফাঁসির সাজা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ-এ একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ইরান যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের হত্যালীলা থামাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমস্ত রকমের বৈঠক স্থগিত করছেন। কোনও বিক্ষোভকারীকে তেহরান মৃত্যুদণ্ড দিলে আমেরিকা আরও কড়া অবস্থান নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে তারপরেই। এই হুঁশিয়ারির পরেও কি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে?
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থার মতে, বুধবার ভোরে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২,৫৭১ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ছিল দু'হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ একদিনেই সংখ্যা বেড়েছে আরও অনেকটা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছেন, নিহতদের জন্য কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।
তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট, ইরানি রিয়ালের তীব্র পতন, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ইত্যাদি কারণে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে ইরানে। নিশানা শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তেহরানের বাজারগুলোতে এবং দ্রুত তা অন্যান্য অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানদার, ছাত্র এবং সাধারণ নাগরিকরা জীবনযাত্রার খারাপ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। অর্থনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন খামেনেইয়ের শাসনকে উৎখাত করার জন্য অন্যতম বৃহত্তম দেশব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সংস্কার এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, সরকারের দমনপীড়নের কারণে এখনও পর্যন্ত ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু।
