আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক ও ট্যারিফ চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা কিউবা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিমধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। 

ট্ৰম্প জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি সম্পর্কে ‘অনন্য ও বহিরাগত হুমকি’ বলে কিউবা সরকারকে ঘোষণা করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ট্যারিফ ব্যবস্থা চালু করার ক্ষমতা পাচ্ছে, যার আওতায় যেকোনও  দেশ বা অঞ্চল যাদের মাধ্যমে কিউবা তেল পায় — সরাসরি বা পরোক্ষভাবে — তাদের পণ্যের ওপর আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। তবে আদেশে ট্যারিফের হার বা কোন দেশগুলো টার্গেট হবে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। 

ট্রাম্প  প্রশাসন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কিউবা সরকারের “অপকর্ম ও নীতি”-র বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করা এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করা। 

কিন্তু কিউবা সরকারের প্রতিক্রিয়া তীব্র: কিউবা সরকার এই সিদ্ধান্তকে “অগ্রাসী ও চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা” হিসেবে অভিহিত করে বলেছে যে, এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে — বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য উৎপাদন, পানীয় জলের সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা জটিলতার মুখে পড়তে পারে। তারা এ সিদ্ধান্তকে “মানুষের বিরুদ্ধে এক ধরনের "নরসংহার” বলেও উল্লেখ করেছে। 

এদিকে, লাতিন আমেরিকার শক্তিমাত্রা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মিশ্র: চীন এই শুল্ক হুঁশিয়ারিকে “বাহ্যিক হস্তক্ষেপ” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং কিউবার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। 

https://www.youtube.com/shorts/qNNr5etY528

এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আত্মসমর্পণ করানোর পর থেকে তেল সরবরাহ থেমে গেছে, যার ফলে কিউবা ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এর ফলে মাদুরোর ভেনেজুয়েলার তেলসহ ঐ অঞ্চলের সহায়তা বন্ধ হওয়া ও অন্যান্য বিকল্প সরবরাহের অভাবে কিউবা শক্তি ঘাটতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলি রিপোর্ট করেছেন। 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শুধু কিউবার সরকারকে চাপ দেবে না, বরং কিউবা-র শক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে এবং ইতিমধ্যেই চরম চাপের মুখে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামরিক-রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বহুপাক্ষিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতি অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে দাড়িয়েছে।