আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ‘সম্ভবত’ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেবে- সোমবার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা এই প্রণালীটি নিজেদের দখলেই রাখব এবং সম্ভবত এর দেখভালও করব। আমরাই হব এই প্রণালীর রক্ষাকর্তা। একে ‘গার্ডিয়ান এঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’ বলা যেতে পারে। আর এই কাজের জন্য আমাদের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেওয়া উচিত।”

অন্য দিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি 'দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাপত্র' অনুযায়ী নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তবে ইরানও এই চুক্তির কোনও শর্ত মানবে না। 

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের একাধিক প্রান্তে আঘাত হেনেছে। এই তালিকায় ছিল ইরানের সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলের রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং ছোট যুদ্ধজাহাজ। এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজের পাশাপাশি প্রথমবার জলপথে আঘাত হানতে সক্ষম ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক সি-ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে।

রবিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহরে একটি চাষের জমিতে জল দেওয়ার পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু হয়। আহত হন আরও চার জন। খুজেস্তানের উপ-রাজ্যপাল ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি জানান, চিকিৎসকদের দল আহতদের শুশ্রূষা করছে।

এদিকে সোমবার ভোরে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি বাহরিন জুড়ে বিমান হানার সাইরেন বেজে ওঠে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। রবিবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর শহর বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক এবং কেশম দ্বীপেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

আসলে, দু’পক্ষের মধ্যে দিনভর চলা তীব্র সামরিক সংঘাতেরই জেরেই হামলা। আমেরিকার দাবি, তারা ইরানের অন্তত ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। জবাবে তেহরানও বাহরিন, কুয়েত, ওমান, কাতার এবং জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

 কুয়েতের দাবি, ইরানের হামলায় তাদের সীমান্ত চৌকি ও একটি তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করার সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ওমান, জর্ডন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও তাদের আকাশসীমায় শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি টের পেয়েছে।

এই সমস্ত উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ- হরমুজ প্রণালী। এই জলপথের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় দাবি, এই জলপথ সম্পূর্ণ “উন্মুক্ত” রয়েছে। তবে ইরানের ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনও সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।