আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে বালুচিস্তান। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সর্বত্র অচলাবস্থা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এই অচলাবস্থার পরিণাম কেবল সংঘাতের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
পাঞ্জাবের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আয়োজিত সাম্প্রতিক এক সাংবাদিক বৈঠকে দেশের শিল্পখাতের ওপর বালুচিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এই অচলাবস্থা যদি চলতে থাকে, তবে তা সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
পাকিস্তানের শিল্পখাতে উদ্বেগ
বালুচ নেতা মীর ইয়ার বালুচের শেয়ার করা একটি ভিডিও অনুযায়ী, পাঞ্জাবের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে- শিল্পকারখানায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ বেলুচিস্তানের মধ্য দিয়েই আসে। তারা শাহবাজ শরিফ সরকারকে সতর্ক করে বলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা পাঞ্জাবজুড়ে শিল্পোৎপাদনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায় উৎপাদনকারীদের ক্রমবর্ধমান সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছে। কাঁচামাল আটকে থাকা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেনে ক্রমাগত ব্যাঘাতের ফলে ওই এলাকা সংকটের মুখে পড়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে করা দাবি অনুযায়ী, কারখানায় প্রয়োজনীয় শিল্প-উপকরণ পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদন কার্যক্রম ধীর হয়ে আসতে শুরু করেছে।
এলএনজি ও কয়লা সরবরাহ ব্যাহত
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও-তে একজন শিল্পনেতাকে বলতে শোনা যায় যে, সাধারণত বালুচিস্তান থেকে পাঞ্জাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা পরিবহন করা হয়। দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এই সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রয়েছে। খবর অনুযায়ী, এই অচলাবস্থার ফলে পাঞ্জাবের কারখানাগুলো বন্ধ হতে শুরু করেছে। কারণ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
অর্থনৈতিক প্রভাব
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেছেন যে, দুকি -র মতো এলাকা থেকে খনি-সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা শিল্পখাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিবহনকারীরাও ধর্মঘট পালন করছেন কারণ মহাসড়কে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বালুচিস্তানের সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে মানবিক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকলেও, বর্তমানে তা এমন এক লজিস্টিক বা পরিবহন-অবরোধের রূপ নিয়েছে যা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
ব্যবসায়ী নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে, শিল্প কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চাপের মুখে পড়তে শুরু করেছে। তাছাড়া, বালুচিস্তান বিরল মৃত্তিকা খনিজ-এর একটি প্রধান উৎস। খবর অনুযায়ী, আসিম মুনির বিনিয়োগ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই খনিজ সম্পদ আমেরিকার কাছে তুলে ধরতে আগ্রহী।
বালুচ নেতাদের মতামত
বালুচ নেতাদের মতে, বালুচিস্তান যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে পাকিস্তানকে চরম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। একজন বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, বালুচিস্তানের সোনা, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ ছাড়া "পাকিস্তান রাষ্ট্র দেউলিয়া ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।"
এদিকে, মীর ইয়ার বালুচ বলেছেন যে, তিনি যাকে "রিপাবলিক অফ বেলুচিস্তান" বা বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বালুচ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। তিনি বলেন, "পাকিস্তান সেনাবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এবং এখন কেবল বিমানবাহিনীর ওপর নির্ভর করছে। বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের জনগণ সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। আগে কেবল সশস্ত্র বালুচরাই লড়াই করত, কিন্তু এখন সাধারণ মানুষও প্রতিরোধে শামিল হচ্ছে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে বালুচিস্তান ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।"
বালুচিস্তানের সঙ্গে পাঞ্জাবের সংযোগকারী বাণিজ্য ও পরিবহন রুটে ক্রমাগত বিঘ্ন ঘটার দাবির মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা পাকিস্তানের শিল্পখাতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
















