আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর সুইডেনে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে যৌন  শোষণ করে অন্তত ১২০ জন পুরুষের কাছে যৌন পরিষেবা বিক্রি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগের ভিত্তিতে গত অক্টোবর মাস থেকে ওই ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মামলাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে গিয়ে সরকারি কৌঁসুলি ইদা আন্নারস্টেড জানান, তদন্তকারীদের ধারণা—অভিযুক্ত ব্যক্তি বৃহৎ পরিসরে ও নির্মমভাবে নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘অ্যাগ্রাভেটেড প্রোকিউরমেন্ট’ বা গুরুতর দালালির অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে।

দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে সুইডেনের লিঙ্গসমতা বিষয়ক মন্ত্রী  লারসন  ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, মামলায় জোর করে স্ত্রীকে বাধ্য করা হয়েছিল কি না বা মহিলাকে মাদক প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না—এই বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনও মন্তব্য করা হচ্ছে না।

&t=2s

সুইডেনের আইনে যৌন পরিষেবা কেনা এবং তার দালালি—দুটিই অপরাধ। তবে যৌন পরিষেবা বিক্রয়কারী ব্যক্তিকে অপরাধী নয়, বরং শোষণের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত স্বামী দোষী সাব্যস্ত হলে দুই থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।ইতিমধ্যে দু’জন পুরুষের বিরুদ্ধে ওই মহিলার সঙ্গে যৌন পরিষেবা কেনার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হতে পারে। দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের এক বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

উল্লেখ্য, সুইডেনে শারীরিক সংস্পর্শ ছাড়াই অনলাইনে যৌন পরিষেবা কেনাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রসিকিউটর আন্নারস্টেড জানিয়েছেন, আগামী ১৩ মার্চ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পেশ করা হবে এবং শীঘ্রই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।