আজকাল ওয়েবডেস্ক: দখল করে রাখা ওয়েস্ট ব্যাংক-এ  ইজরায়েলের ‘ডি-ফ্যাক্টো’ সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ৮৫টি রাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে সই করেনি ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত প্যালেস্টাইন মিশন এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে তিনটি আন্তর্জাতিক জোট—League of Arab States, Organisation of Islamic Cooperation এবং European Union—সহ ৮৫টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট ব্যাংক-এ ইজরায়েলের অবৈধ উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে একতরফা যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। যে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণ (annexation)-এর বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ১৫ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে ওয়েস্ট ব্যাংক-এ জমি রেজিস্ট্রেশন  প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে এই প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। নতুন করে জমি রেজিস্ট্রেশন শুরু হলে জমির মালিকানা দাবি করতে নথিপত্র জমা দিতে হবে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে বিস্তীর্ণ জমি দখলের পথ প্রশস্ত হতে পারে। ইজরায়েলের অ্যান্টি-সেটলমেন্ট সংগঠন 'Peace Now' এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য “মেগা ল্যান্ড গ্র্যাব” বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের সময়ও যেসব দেশ ইজরায়েলকে সমর্থন করেছে—যেমন জার্মানি—তাদের মধ্যেও ওয়েস্ট ব্যাংক-এ  এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা দেখা গেছে।

&t=2s

ভারত ঐতিহাসিকভাবে প্যালেস্টাইন প্রশ্নে সমর্থন জানালেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির  আমলে ইজরায়েল-সমর্থক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত। গত জুন মাসে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তি এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর দাবিতে আনা প্রস্তাবে অধিকাংশ সদস্য দেশ সমর্থন করলেও ভারত ভোটদানে বিরত থাকে। ২০২৪ সালে United Nations Human Rights Council-এ গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবেও ভারত বিরত ছিল।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড—পূর্ব জেরুসালেম-সহ—এর জনসংখ্যাগত গঠন, চরিত্র ও মর্যাদা বদলে দেওয়ার যে কোনও পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করে। দেশগুলি International Court of Justice-এর ১৯ জুলাই, ২০২৪-এর পরামর্শমূলক মতামতের উল্লেখ করে প্যালেস্টাইনের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান আবারো জাহির করেছে।

তারা জানিয়েছে, প্রাসঙ্গিক রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাব, মাদ্রিদ শান্তি প্রক্রিয়ার নীতি এবং ‘ল্যান্ড ফর পিস’ সূত্র মেনে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে দু’টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন—গঠনের মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব António Guterres ব্যক্তিগতভাবেও ইজরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলে প্যালেস্তিনীয়দের সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে এবং ওয়েস্ট ব্যাংক-এ  ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে আলোচনার ভিত্তিতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথেই শান্তি সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।