আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা উচ্চপর্যায়ের মার্কিন-ইরান শান্তি বৈঠককে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে পাকিস্তান। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান যে বিশাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


বিশেষজ্ঞরা এই ব্যবস্থাকে আয়রন এসকর্ট বলে অভিহিত করছেন। পাকিস্তান এয়ার ফোর্স তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম শান্তিকালীন অপারেশন শুরু করেছে। যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, এবং সি-১৩০ পরিবহন বিমান—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বহুস্তরীয় আকাশ ঢাল।


গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তান, চীনের সহায়তায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রায় এক মাসের সংঘর্ষে তেহরানে ২০০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এখন সেই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদে বসছে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।


ইসলামাবাদ এখন দুর্গের মতো সুরক্ষিত
শুধু আকাশে নয়, স্থলভাগেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত লকডাউন করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তায় “ফুলপ্রুফ” পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে থাকতে পারেন পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এই প্রথম এত উচ্চস্তরের মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


আকাশে নজিরবিহীন সামরিক মোতায়েন
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, পাকিস্তানের থান্ডার এবং এফ ১৬ যুদ্ধবিমান ইরানের বন্দর শহর বান্দর আব্বাসের কাছে টহল দিচ্ছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত এসকর্ট করবে।


এর পাশাপাশি রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে, যা যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে সাহায্য করবে। হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে লজিস্টিক সহায়তার জন্য। এই নিরাপত্তা বলয় শুধু ইরান বা পাকিস্তানের আকাশসীমায় সীমাবদ্ধ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের আকাশসীমাতেও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান দেখা গেছে, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে।


ইজরায়েল ফ্যাক্টর ও কূটনৈতিক চাপ
সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ইজরায়েলকে “অশুভ শক্তি” বলে মন্তব্য করলে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পরে আসিফ তাঁর মন্তব্য মুছে ফেলেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দেয়—এই বৈঠক সফল করতে তারা কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

&t=546s
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই শান্তি বৈঠক শুধু একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং পাকিস্তানের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষাও। সফল হলে, তারা নিজেদের দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।