আজকাল ওয়েবডেস্ক: নদীর ধারে সারি সারি নিথর দেহ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে পড়ে নদীর ধারে। তার জেরেই মৃত্যুমিছিল নেপালে। এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সোমবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলেছে ওই এলাকায়। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের ধাদিং জেলায়। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, গাজুরির কাছে ত্রিশূলী নদীতে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনায় ১৮ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাসটা পোখরা থেকে কাঠমান্ডুর দিকে আসছিল। দুর্ঘটনায় ২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রাত দেড়টা নাগাদ কাঠমান্ডু থেকে ৯০ কিমি পশ্চিমে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পৃথ্বী হাইওয়ের ধারেই ত্রিশূলী নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গড়িয়ে পড়ে বাসটি। 

পুলিশ আধিকারিক বিষ্ণু প্রসাদ ভাট্টা জানিয়েছেন, ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আরও ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনাবাহিনী এবং এপিএফ একযোগে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। দুর্ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ডাচ ও একজন জাপানি মহিলাও রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বেপরোয়া গতির জেরেই বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই হাইওয়ে থেকে ছিটকে রাস্তার ধারে বাসটি পড়ে যায়। 

২০২৪ সালে আগস্টে নেপালে আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় সেবারেও মৃত্যুমিছিল। ৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। আহত আরও একাধিক ভারতীয় পর্যটক ভর্তি ছিলেন কাঠমান্ডুর হাসপাতালে। এই পরিস্থিতিতে নিহত ও আহতদের পরিবার পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

শুক্রবার ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল নেপালের তনহুঁ জেলায়। ভারতীয় পর্যটকবোঝাই বাসটি পোখরা থেকে কাঠমান্ডুর দিকে যাচ্ছিল। আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইওয়ে থেকে ১৫০ ফুট নীচে মারশিয়াংড়ি নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৫৯ জন পর্যটক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে আরও ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

বাস দুর্ঘটনায় আহত আরও ১২ জনকে এয়ারলিফট করে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হসপিটালে ভর্তি করানো হয়েছিল। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, নেপালে বাস দুর্ঘটনায় মৃত ভারতীয় পর্যটকদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা, আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও।