আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার নিয়েছে হাম। হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে আরও ৩ শিশু মারা গেছে। এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে বাংলাদেশে ৪৯৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গিয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গিয়েছে ৯০ শিশু। এই নিয়ে মোট ৫৮৮ শিশুর মৃত্যু হল।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২ হাজার ৭০ শিশুর। এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু বাড়ি ফিরেছে। ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৯ হাজার ৯৪ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
যদিও এর আগে ইউনিসেফ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল যে, হাম পরিস্থিতি নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়েছিল এবং এছাড়া বিভিন্ন বৈঠকে অন্তত ১০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রাক্তন বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের কাছে তার প্রতিক্রিয়ায় ইউনিসেফের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রসঙ্গত, হামের টিকার স্বল্পতা মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করছেন। হাম উপসর্গে শত শত শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করে ঢাকায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কেন কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচিব ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। কেন এত শিশুর মৃত্যু হল বা এক্ষেত্রে কারও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।















