আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার গ্রেপ্তার হওয়া প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একটি ‘ব্যঙ্গাত্মক নাচের ভিডিও’ই ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দেয়। হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসির ট্রাম্প–কেনেডি সেন্টারে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, মাদুরো তাঁর 'আইকনিক' র্যালি ডান্স নকল করে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করার চেষ্টা করেছিলেন, যা প্রশাসনের চোখে ছিল স্পষ্ট উসকানি।
ট্রাম্পের ভাষায়, “ও উঠে দাঁড়িয়ে একটু করে আমার নাচ নকল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ও একজন হিংস্র লোক। সে লাখ লাখ মানুষকে মেরেছে।” প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও, যেখানে মাদুরোকে ‘No War, Yes Peace’ স্লোগানের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় এবং ইংরেজি অডিওতে বারবার শোনা যায় ‘No crazy war’। ভিডিওটি সম্প্রচারিত হয়েছিল ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে মার্কিন হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ মহলে এই ভিডিওকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারিকে তুচ্ছ করার প্রয়াস হিসেবেই দেখা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই ঘটনাকে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে ধরা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, মাদুরোর এই আচরণ প্রমাণ করে যে তিনি আর মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এর ফলেই সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা দ্রুত এগোয়, যার পরিণতিতে মাদুরোকে আটক করা হয়।
তবে বক্তব্যের বড় অংশজুড়েই ট্রাম্প কূটনৈতিক বা আইনি ব্যাখ্যার বদলে নাচের রাজনীতিতেই ফিরে যান। তিনি বলেন, তাঁর নিজের মঞ্চের নাচ নিয়েও হোয়াইট হাউসে আপত্তি রয়েছে। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প নাকি বারবার তাঁকে বলেছেন, এই ধরনের আচরণ “প্রেসিডেনশিয়াল নয়”। ট্রাম্প বলেন, “আমার স্ত্রী খুবই রুচিশীল মানুষ। ও বলে, ‘এটা একেবারেই প্রেসিডেন্টকে শোভা পায় না।’”
ট্রাম্পের দাবি, তিনি মেলানিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে সমর্থকেরাই তাঁর কাছ থেকে এই নাচ আশা করেন। কিন্তু মেলানিয়ার জবাব ছিল আরও কঠোর। ট্রাম্পের কথায়, তিনি বলেছিলেন, “তারা এটা পছন্দ করে না, শুধু তোমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে।” এমনকি মেলানিয়া নাকি ইতিহাস টেনেও প্রশ্ন তুলেছিলেন, “ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে কি কখনও নাচতে কল্পনা করা যায়?”
এই হালকা-চালে ভরা মন্তব্যগুলির মধ্যেই আরও গুরুতর বাস্তবতা উঠে আসে। নিউ ইয়র্কে এই সপ্তাহেই মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নার্কো-টেররিজম ও কোকেন পাচারের অভিযোগে আদালতে তোলা হয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযানের ‘কৌশলগত সাফল্য’-র প্রশংসা করলেও তাঁর বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মাদুরোর ‘অপমানজনক আচরণ’ ও তার প্রতীকী অর্থ।
ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক রূপান্তর তদারক করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তা কতদিন চলবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। দেশটির বিধ্বস্ত তেল সম্পদ পুনর্গঠনের দায়িত্বও কার্যত ওয়াশিংটনের হাতেই থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেন, মাদুরোর অনুগত গোষ্ঠী বা উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ যদি কোনও ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তবে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া আসবে।
ট্রাম্পের কথায়, পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য “আর কখনও প্রশ্নের মুখে পড়বে না”। তাঁর এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলা সংকটকে শুধু একটি আইনি বা সামরিক ইস্যু নয়, বরং ক্ষমতা, অপমান এবং রাজনৈতিক লড়াই হিসেবেই তুলে ধরছে যেখানে একটি সাধারণ নাচও যুদ্ধের কারণ হয়ে যাচ্ছে।
