আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুইৎজারল্যান্ডে একটি বিলাসবহুল বারে নববর্ষ উদযাপনের সময় বিস্ফোরণে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। তদন্তের পর শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, একটি ফোম-আচ্ছাদিত ছাদের নীচে আতশবাজি জ্বালানোর ফলেই সম্ভবত একটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। এর ফলে সুইজারল্যান্ডের স্কি বারে নববর্ষ উদযাপনে আসা ৪০ জন নিহত হন। তবে বারের মালিক জোর দাবি করেছেন, সমস্ত নিরাপত্তার মান অনুসরণ করা হয়েছিল। 

শোকার্ত পরিজনেরা। ছবি: সংগৃহীত।

গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে সুইস আল্পসের ক্রান্স-মন্টানা রিসোর্ট শহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের সময় তদন্তকারীরা মোবাইলের ফুটেজ দেখে এবং জীবিতদের সঙ্গে কথা বলে একপ্রকার নিশ্চিত যে আতশবাজির ফুলঝুরির কারণে ওই আগুন লেগেছে। অনলাইনে পোস্ট করা ছবিগুলিতে লে কনস্টেলেশন বারের পার্টিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেখা গিয়েছে। একটি ভিডিওতে (সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন) দেখা গিয়েছে, শ্যাম্পেনের বোতলের মুখে আতশবাজি লাগানো রয়েছে, যেগুলি বেসমেন্টের বারের নীচু ছাদের কাছাকাছি ধরা হয়েছিল। সেই ছাদটি শব্দরোধী ফোমের উপাদান দিয়ে ঢাকা ছিল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আগুন লাগার পরেও সেখানে উপস্থিত সদ্যযুবাদের কোনও হুঁশ নেই, সকলেই নাচতে ব্যস্ত। কেউ বুঝতেই পারছিলেন না যে কোনও মরণফাঁদে আটকে পড়েছেন তাঁরা।

পার্টিতে আসা লোকজন বিপদের আন্দাজ করতেই সেখানে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, সকলেই ছোটাছুটি করছেন এবং চিৎকার করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা এক ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে লোকজন পালানোর জন্য জানালা ভাঙার চেষ্টা করছিল, আর অন্যরা গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় রাস্তায় বেরিয়ে আসছিলেন। বেঁচে যাওয়া ১১৯ জনের বেশিরভাগই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন। এর ফলে সুইস হাসপাতালগুলির উপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে, পুড়ে যাওয়া মানুষদের চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজনকে প্রতিবেশী ইউরোপীয় দেশগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঝলসে যাওয়া লে কনস্টেলেশন। ছবি: সংগৃহীত।

২০১৫ সাল থেকে স্ত্রী জেসিকাকে নিয়ে বারটি পরিচালনা করে আসা ফরাসি মালিক জ্যাক মোরেত্তি সুইস দৈনিক ট্রিবিউন ডি জেনেভ-কে বলেছেন যে, নিরাপত্তার সব নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল। 

আগুন লাগার ঠিক মুহূর্তে। ছবি: এক্স।

ওয়ালিস অঞ্চলের প্রধান প্রসিকিউটর বিয়াত্রিস পিলুদ একটি সাংবাদিকদের বলেছেন, “সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ছাদের কাছাকাছি উঁচুতে নাড়ানো ফুলঝুরি বা আতশবাজি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাজনিত মানদণ্ডগুলি সঠিক প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। আধিকারিকরা আরও খতিয়ে দেখছেন যে বারটি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলেছিল কি না। যার মধ্যে অগ্নি নির্বাপণের পথ এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের সহজলভ্য ছিল কি না এবং অতিরিক্ত ভিড় কোনও ভূমিকা রেখেছিল কি না।

পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার জানিয়েছেন, নিহতদের শনাক্ত করাই অগ্রাধিকার। আহতদের মধ্যে ১১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭১ জন সুইস নাগরিক, ১৪ জন ফরাসি, ১১ জন ইতালীয় এবং চারজন সার্বিয়ার নাগরিক। বাকি ছ’জনকে শনাক্তকরণের কাজ চলছে।