আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণভাবে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি বা খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর জন্য এল নিনোকে দায়ী করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালে এক ব্যতিক্রমী বাস্তবতা সামনে আসছে—এল নিনো সক্রিয় না থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জলবায়ু বিপর্যয় আরও মারাত্মক হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ প্রাকৃতিক কোনও চক্র নয়, বরং মানুষের দীর্ঘদিনের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা।


এল নিনো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়িয়ে বিশ্বের আবহাওয়ার ধরণ বদলে দেয়। তাপমাত্রা বাড়ে, বৃষ্টি অস্বাভাবিক হয় এবং খরা বা বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২০২৬ সালে এল নিনোর অনুপস্থিতিতেও যে তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল, আকস্মিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা যাচ্ছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি গভীরতর সংকটের দিকেই। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মূলত “ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্মিং”—অর্থাৎ মানুষের তৈরি বিশ্ব উষ্ণায়নের ফল।


কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জমে গেছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে বাড়িয়ে তুলছে। ফলে এখন আর চরম আবহাওয়ার জন্য এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ট্রিগারের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরে জমে থাকা অতিরিক্ত তাপ নিজেই চরম ঘটনাকে আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী করে তুলছে।


২০২৬ সালে এর প্রভাব বিশেষভাবে স্পষ্ট। দক্ষিণ এশিয়ায় রেকর্ড ভাঙা গরম মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ শুষ্কতা ও তাপ একসঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারায় হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে শহরাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধস বাড়ছে।

&t=1479s


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে যদি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো না হয়। নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে বাঁচানোর লড়াই। এল নিনো অনুপস্থিত থাকলেও যে জলবায়ু সংকট থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মূল দোষ প্রাকৃতিক চক্রের নয়, বরং মানুষের জ্বালানি ব্যবহারের।