আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার বিচার বিভাগে এক নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে নিজের খাস কামরায় বসে এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পরকীয়া এবং যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল জেলা বিচারককে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমেরিকার একটি সাত সদস্যের বিচার বিভাগীয় প্যানেল দীর্ঘ তদন্তের পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রথম সামনে আনেন ওই বিচারকেরই এক আইন কর্মকর্তা বা ল ক্লার্ক। তিনি প্রধান বিচারক উইলিয়াম প্রায়রের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত বিচারক অফিসের কাজের সময়েই নিজের বন্ধ ঘরে এক উর্দিধারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হল, আদালতের অন্যান্য কর্মচারীদের বসার জায়গা থেকে মাত্র ঢিলছোড়া দূরত্বে অর্থাৎ প্রায় কানে শোনার মতো পরিধির মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটত। এর ফলে আদালতের কর্মীদের জন্য সেখানে কাজ করা অত্যন্ত বিব্রতকর ও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।

শুরুতে অবশ্য ওই বিচারক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ "ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু জল বেশিদূর গড়ানোর পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দীর্ঘ অনুসদ্ধানে কেলেঙ্কারির অকাট্য সব প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে এই অনৈতিক সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক তদন্তের সময় তিনি ঊর্ধ্বতন বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি, আইন লঙ্ঘন করে স্থানীয় এক জেলা অ্যাটর্নি প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রচারণাতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

অভিযোগের তীব্রতা এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচার বিভাগীয় ওই প্যানেল একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওই বিচারকের ওপর। শাস্তিস্বরূপ তিনি ভবিষ্যতে আর কোনওদিন ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক (চিফ জাজ) হতে পারবেন না। এমনকি জুডিশিয়াল কনফারেন্সের কোনো কমিটিতেও অংশ নেওয়ার অধিকার হারিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি, এই বিশ্রী পরিস্থিতির কারণে যে ছয়জন সাবেক আইন কর্মকর্তা মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের কাছে লিখিতভাবে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই বিচারককে।

কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণ পুরো আদালতের পেশাদার পরিবেশকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে, এই পরকীয়ার কারণে ওই বিচারক ব্লাকমেইল বা চাঁদাবাজির মতো মারাত্মক ঝুঁকির মুখেও পড়তে পারতেন, যা বিচার ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত এবং কঠোর শাস্তির ঘোষণা হলেও, বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই বিচারকের নাম বা পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।