আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হল। এই প্রেক্ষাপটে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিলেন—দুই গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এখন আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সফরে জয়শঙ্কর একের পর এক বৈঠক করেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য, শক্তি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা।


এই সফরের আগে ট্রাম্প–মোদী বৈঠকের পর বড় ঘোষণা আসে—ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই শুল্কছাড়কে ভারতের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি শক্ত ভিত তৈরি করবে। জয়শঙ্কর এই চুক্তিকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অন্যতম স্তম্ভ বলে উল্লেখ করে জানান, এর মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ট্রেজারি সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে জয়শঙ্কর লেখেন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ‘উপকারী আলোচনা’ হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের মাধ্যমে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

?ref_src=twsrc%5Etfw">February 3, 2026


এরপর মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ খনিজ অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প–মোদী বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দুই নেতা বলেন, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি ও শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই গণতন্ত্রের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খনিজ সম্পদ সহযোগিতার পেছনে রয়েছে কৌশলগত কারণ। প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে বর্তমানে কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা, বিশেষ করে চিনের ওপর, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।


এই লক্ষ্যেই ওয়াশিংটনে প্রথম ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়াল’ আয়োজন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। জয়শঙ্করও এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০টি দেশ চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি জোটে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।


সব মিলিয়ে, ট্রাম্প–মোদী চুক্তির পর জয়শঙ্করের এই সফর স্পষ্ট করছে—ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক এখন শুধু বাণিজ্য নয়, বরং কৌশলগত ও ভবিষ্যৎমুখী সহযোগিতার নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে।