আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশ আবারও ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার, ৩০০টি সংসদীয় আসন এবং তিনটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে এই জাতীয় নির্বাচনকে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বহু নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু এবারের ভোট দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ ঠিক করে দিতে পারে বলেই উত্তেজনা তুঙ্গে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় সংখ্যক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলেছেন। তরুণ ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নতুন প্রজন্মের ভোটাররাই এবার ‘কিংমেকার’ হতে পারেন বলে ধারণা। কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলিই তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে।
৩০০ আসনের এই লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্ষমতাসীন দল, প্রধান বিরোধী জোট এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনটি সম্ভাব্য ফলাফল সামনে আসতে পারে। প্রথমত, ক্ষমতাসীন দল আবারও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে, যা ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। দ্বিতীয়ত, হাং পার্লামেন্ট বা ঝুলন্ত সংসদ—যেখানে কোনও দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না, ফলে জোট রাজনীতি এবং দরকষাকষির যুগ শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, বিরোধীদের বড় উত্থান—যা দেশে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দেবে।
এই নির্বাচনে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের পর্যবেক্ষকরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ডিজিটাল নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো খবর ও অপপ্রচার রুখতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিস্ব বাজারের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। নতুন সরকারকে এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে হবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন, কারণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই বিনিয়োগের মূল শর্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়—এটি গণতন্ত্রের শক্তি পরীক্ষারও মুহূর্ত। ভোটারদের অংশগ্রহণ, স্বাধীনভাবে ভোটদান এবং ফলাফল গ্রহণ—এই তিনটি বিষয়েই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
এবার বাংলাদেশে ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটের প্রচার শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। সকাল সাতটা তিরিশ মিনিট থেকে শুরু করে ভোটদান পর্ব চলবে বিকেল চারটে তিরিশ মিনিট পর্যন্ত। এবারে সেখানে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১,৯৮১ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৬১ টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হবে। পোলিং বুথ থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজারটি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ৯২ হাজার ৫০০ জন সেনা। থাকছে পুলিশ এবং আধাসেনা।
সব মিলিয়ে মানুষের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। তাই এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সেদেশের ভবিষ্যৎ গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।
