আজকাল ওয়েবডেস্ক: একপ্রকার খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও ইরানের বৈঠক। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির আশা জেগেছিল, তা এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। 

কথা ছিল, চলতি সপ্তাহান্তেই ইসলামাবাদে বিশেষ বৈঠকে মুখোমুখি হবে দু’পক্ষ। কিন্তু শেষ মুহূর্তের খবর, ইরানের প্রতিনিধি দল এখনও তেহরান থেকেই রওনা দেয়নি।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বা পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ- কেউই এখনও পাকিস্তানে পৌঁছননি। এদিকে পশ্চিমী সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, প্রতিনিধিরা পৌঁছে গিয়েছেন। এই টানাপড়েনেই দানা বাঁধছে জল্পনা।

বৈঠকের ক্ষেত্রে এই বড় ধাক্কার মূলে রয়েছে লেবাননের ওপর ইজরায়েলের আচমকা ভয়াবহ হামলা। প্রতিবেশী এই দেশে ইজরায়েলি হানায় ৩০০ জনের মৃত্যু, একইসঙ্গে হাজারো মানুষ আহত হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ তেহরান। এর ফলেই আলোচনার টেবিলে বসা নিয়ে আবারও টালবাহানা শুরু হয়েছে।

এদিকে আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল। ইসলামাবাদের যে হোটেলে বৈঠক হওয়ার কথা, তার আশপাশে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মূল দুই পক্ষই এখন একে অপরের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে।

আগুনে ঘি ঢেলেছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর থেকে চড়া মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। 

খবরটি কানে যেতেই মেজাজ হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়ে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যেন এই ‘টোল’ আদায়ের সাহস না দেখায়। দেখালে ফল ভাল হবে না। প্রসঙ্গত, বিশ্বের সিংহভাগ তেলের কারবার চলে এই জলপথ দিয়েই।

ঠিক ছিল, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে দুই পক্ষই হেভিওয়েট নেতাদের পাঠাবে। ওয়াশিংটনের হয়ে এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। দলে রয়েছেন জ্যারেড কুশনারও। কিন্তু সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা এবং কুয়েতে ড্রোন হানা- এই সব কিছুই এখন আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।

শনিবারই এই বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আবারও হামলা ও হরমুজ নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাল শান্তি বৈঠক শুরু হবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় কূটনৈতিক মহল।