আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। আমেরিকার সঙ্গে চলা এহেন প্রবল সংঘাতের মধ্যেই সোমবার তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্রেফ 'সাময়িক' যুদ্ধবিরতির জন্য তারা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেবে না। সাফ কথা, আমেরিকার 'সদিচ্ছার' অভাব রয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক সরাসরি ওয়াশিংটনকে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা 'স্থায়ী' শান্তিতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। তেহরান এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট উত্তেজনার পারদ আরও চরমে তুলে দিয়েছে। অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানকে 'নরক যন্ত্রণা' ভোগ করতে হবে।

সোমবারকে ‘ব্রীজ ডে’ এবং মঙ্গলবারকে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইরানের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর পোস্টের শেষে লেখা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দবন্ধটি নিয়ে ইতিমদ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সীমানায় ভেঙে পড়েছে একটি মার্কিন বিমান। তার দুই পাইলটকে উদ্ধার করার পর ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেপথ্যে দূতের কাজ করছে মিশর, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। তারা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে দুই দেশকেই। 

লক্ষ্য হল, সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। আমেরিকা বা ইরান কোনও পক্ষই এখনও এই প্রস্তাবে শিলমোহর দেয়নি। ইরান পাল্টা দাবি তুলছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। 

প্রসঙ্গত, ইরান হামলার পর এবার পাল্টা আক্রমণ। গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ইজরায়েলের পেতাহ তিকভার একটি ড্রোন তৈরির কারখানা। ‘অ্যারো সোল অ্যাভিয়েশন সলিউশনস’ নামে ওই সংস্থার কারখানাটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেখানে কাজ চালানো আর সম্ভব নয়। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ওই কারখানা নতুন করে মেরামত করার সম্ভাবনাও কার্যত শেষ।

একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর কাছে এই কারখানার গুরুত্ব অপরিসীম। এখান থেকে সেনার জন্য ড্রোন, পাইলটদের বিশেষ হেলমেট এবং বোমার নানা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানার ঠিক পাশেই আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি। তাতে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গোটা এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।