আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুধু গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক গুরুত্বের পর্যায়ে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন “খুবই কঠোর ব্যবস্থা” নেবে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ঝুলিয়ে দেয়, তাহলে কিছু ঘটনা দেখতে পাবেন… আমরা খুব কঠোর ব্যবস্থা নেব।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরান সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি ও প্রাক্তন সংসদ স্পিকার আলি লারিজানি এক পোস্টে জানান, “আমরা ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি: ১. ট্রাম্প, ২. নেতানিয়াহু।” লারিজানি অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল পরিস্থিতিকে উসকে দিচ্ছে এবং রক্তপাতের জন্য তারাই দায়ী।
ইরানের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত আমির সাইয়েদ ইরাভানি একই সুরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আক্রমণ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ। চিঠিটি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকেও পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভকে হিংসার দিকে নিয়ে গিয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প মঙ্গলবার আরেক পোস্টে ইরানিদের “সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের” আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্যের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইরান দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানায়। পাশাপাশি রাশিয়াও তীব্র নিন্দা জানায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার বিরুদ্ধে। মস্কো জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে “উস্কানিমূলক হস্তক্ষেপ” এবং সম্ভাব্য সামরিক হুমকি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে বলে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ১৮,১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে খবর মিলেছে। যদিও ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমদিকে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে, পরে এক কর্মকর্তা বক্তব্য দেন যে সেখানে অনেকেই মারা গিয়েছেন।
এই প্রতিবাদের সূচনা অর্থনৈতিক পতন ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে। কয়েক দিনের মধ্যেই তা ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন না।
সমগ্র পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। ইরান সরকার এই সঙ্কটকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে এটি জনগণের স্বাধীনতার লড়াই। ফলে ইরানের রাস্তায় রক্তপাত থামার বদলে বরং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
