আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে আরও এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং দেশের নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পতাকাবাহী দু'টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার— 'এমটি আল বাহিয়াহ' এবং 'এমটি মোম্বাসা'-তে সম্প্রতি নতুন করে হামলা চালানো হয়। দু'টি জাহাজে ছিলেন মোট ৪৬ জন ক্রু-র মধ্যে ৩০ জনই ভারতীয়। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নৌবাহিনী, বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরের কর্তারা। তারপরই একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়। সেগুলি হল-
১। রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড: পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজের পতাকা নির্বিশেষে ভারতীয় নাবিকদের ট্র্যাক করতে একটি 'অপারেশনাল ড্যাশবোর্ড' তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২। ডেডিকেটেড লিয়াজোঁ অফিসার: ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের জন্য একজন নির্দিষ্ট লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অফিসারই চিকিৎসা সংক্রান্ত খবরাখবর, যাতায়াতের নথিপত্র, ক্ষতিপূরণ এবং দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন।
৩। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিবাদ: কেন্দ্রের তরফে হামলার তীব্র বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে এই সব হামলার আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং নাবিকদের নিরাপত্তার পরিপন্থী বলেও জানানো হয়েছে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, "অসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের নীতি সবসময় 'নাবিকদের স্বার্থ সবার আগে' দেখা। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে আক্রান্ত নাবিকদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।"
পাশাপাশি জাহাজ সংস্থা এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্য, নিরাপত্তা এবং সহায়তা নিশ্চিত না করে কোনও ভারতীয় নাবিককে ওই বিপজ্জনক জলসীমায় পাঠানো যাবে না। জাহাজের ক্যাপ্টেনের পেশাদার কতটা ঝুঁকি রয়েছে তা খতিয়ে দেখার পরেই কেবল ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
















