আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে ধুন্ধুমার কাণ্ড। দেশের অর্থনৈতিক অবনতি এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেছেন হাজার হাজার দোকানদার। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সাধারণ মানুষও। ক্রমশ এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিক্ষোভ মূলত, সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে। রবিবার থেকে চলতে থাকা বিক্ষোভ-আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য। এবার বিক্ষোভে উত্তাল ইরানকে, কড়া হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। আমেরিকা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। মার্কিন মুলুক প্রস্তুত, যে কোনও সময়, প্রয়োজন পড়লেই এগিয়ে যাবে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। সে বছর ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল। হিজাব না পরার কারণে ইরানের নীতি পুলিশ আমিনিকে আটক করেছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, সবচেয়ে হিংসার ঘটনা ঘটে ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও'তে রাস্তায় জিনিসপত্রে আগুন লাগানোর দৃশ্য দেখা যায় এবং লোকজনকে 'লজ্জাহীন! লজ্জাহীন!' বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। লরদেগানে অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও'তে একটি রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের দেখা যায় এবং গুলির শব্দও শোনা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটগুলোতে ভাইরাল হওয়া ভিডিও'তে দেখা গিয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী সশস্ত্র ছিল এবং তারা পুলিশদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদেরকে উর্দি পরা পুলিশ কর্তাদের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের কার্যালয়, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে পাথর নিক্ষেপ করে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার লোরেস্তান প্রদেশের কুহদাশতে বিক্ষোভ ক্রমশ হিংস্র হলে, ইরানের আধা-সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং ১৩ জন আহত হন। সংবাদ সংস্থাটি একটি ভিডিও সম্প্রচার করেছে যেখানে দেখা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে জখম হয়েছেন একজন পুলিশকর্তা, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এই আধা-সামরিক বাহিনীকে সাধারণত সরকার বিক্ষোভ দমনের জন্য মোতায়েন করেছিল।
ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বেশ কয়েকটি ইরানি শহরে দোকানদার, বাজারের ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দিয়ে সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়েছে। ইরান সরকার ঠান্ডা আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করে বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। ইরানে সাপ্তাহিক ছুটি হল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, আর শনিবার ইমাম আলির জন্মদিন, যা অনেকের জন্য আরেকটি ছুটির দিন।
কেন এই বিক্ষোভ?
ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক অবনতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময় মূল্য ওঠানামার কারণে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়ন হয়েছে। বর্তমানে এক ডলারের মূল্য প্রায় ১.৪ মিলিয়ন রিয়াল। মুদ্রার পতন এমনীতেই ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির জন্য একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা ছিল। রিয়ালের পতনের ফলে ইতিমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে, যা ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়েছে।
যদিও ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এই বিক্ষোভ শুরু করে, তবে কিছু বিক্ষোভকারীকে দেশের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে।
