আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৩ জানুয়ারির গভীর রাতে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে সেখানকার নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরো একটি শক্তিশালী মাদক কার্টেলের প্রধান এবং তাঁর মদতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ মাদক মহামারি তৈরি হয়েছে।


কিন্তু তথ্য ও সরকারি রিপোর্ট খতিয়ে দেখলে ট্রাম্পের এই দাবিতে একাধিক ফাঁক ধরা পড়ে। বাস্তবতা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা মাদকের প্রধান উৎস ভেনেজুয়েলা নয়। বরং লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে মেক্সিকো ও কলম্বিয়াভিত্তিক কার্টেলগুলিই এই মাদক স্রোতের মূল নিয়ন্ত্রক।


২০২৪ সালের ‘ন্যাশনাল সার্ভে অন ড্রাগ ইউজ অ্যান্ড হেলথ’ অনুযায়ী, গাঁজা বাদ দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭৭ লক্ষ মার্কিন নাগরিক নিয়মিত অবৈধ মাদক ব্যবহার করেন। এটি ১২ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার প্রায় ৯.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক অবৈধ মাদক সেবনকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।


সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে এমডিএমএ, এলএসডি ও এক্সট্যাসির মতো হ্যালুসিনোজেন, ফেন্টানিলসহ ওপিওয়েড, কোকেন ও ক্র্যাক, মেথামফেটামিন এবং হেরোইন ।
ফেন্টানিল সঙ্কট এতটাই ভয়াবহ যে প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন আমেরিকানের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৮১ হাজার মানুষ ওভারডোজে মারা গেছেন, যার ৭০–৮০ শতাংশই সিন্থেটিক ওপিওয়েডের কারণে।


তাহলে মাদক আসে কোথা থেকে?
ডিইএ-র ২০২৫ সালের ‘ন্যাশনাল ড্রাগ থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা অধিকাংশ মাদক আসে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে। সিনালোয়া কার্টেল ও কার্টেল জালিস্কো নিউভা জেনারাসিওন এই চোরাচালানের প্রধান নিয়ন্ত্রক।


মাদক পাচারে ব্যবহৃত হয় সীমান্তের সুড়ঙ্গ, ড্রোন, এমনকি বৈধ প্রবেশপথ দিয়ে গাড়ি ও ট্রাকে লুকিয়ে বহন। সীমান্ত পেরোনোর পর বিভিন্ন জাতীয় সড়ক ধরে মাদক পৌঁছে যায় ফিনিক্স, ডালাস, আটলান্টা ও শিকাগোর মতো শহরে।

&t=2s


এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগর হয়ে নৌপথেও কোকেনসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ঢোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের অভিযোগ যতটা রাজনৈতিক, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।