আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকায় অবস্থিত গুগলের সদর দপ্তরে এক সাধারণ সন্ধে হঠাৎই হয়ে উঠল স্মরণীয়। অফিসের শেষ দিন কাটাতে এসে এক কর্মীর জীবনে এমন এক মুহূর্ত এল, যা হয়ত তিনি কোনওদিন ভুলতে পারবেন না। একটি সাধারণ সাইকেল রাইডই তাঁকে পৌঁছে দিল সরাসরি সুন্দর পিচাই এর সামনে। 

সাহিল শর্মা নামে ওই কর্মী এক সপ্তাহের জন্য গুগলের অফিসে গিয়েছিলেন। শেষ দিনে কাজ সেরে একটি ছোট অফিস পার্টিতে যোগ দেন তিনি। দিনটি শেষ করার আগে মনে হল, আর একবার পুরো ক্যাম্পাসটা ঘুরে দেখা যাক। তাই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু সেই সাধারণ সিদ্ধান্তই বদলে দেয় দিনটাকে। ক্যাম্পাসে ঘোরার সময় তিনি দেখতে পান, সুন্দর পিচাই একদম স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। সাহিল জানান, অফিসে থাকার সময় তিনি অনেকবার ভেবেছিলেন যদি একবার পিচাইয়ের সঙ্গে দেখা হত! তবে সেটা সত্যিই ঘটবে, এমনটা কল্পনাও করেননি। 

সাহিলের কথায়, পিচাই অত্যন্ত বন্ধুসুলভ এবং বিনয়ী আচরণ করেন। তিনি কর্মীদের কাছে এসে তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান। অফিসে তাঁর সময়টা কেমন কাটল, আজ অফিসে তিনি কী শিখলেন সেসব নিয়ে আলোচনা করেন। এমনকি ক্রিকেট নিয়েও গল্প করেন। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রসঙ্গও উঠে আসে কথোপকথনে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্তটি আসে যখন পিচাই নিজেই তাঁদের মুখের উচ্ছ্বাস দেখে বলেন, ‘‌তোমরা কি একটা ছবি তুলতে চাও?’‌ তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তাবেই স্মরণীয় হয়ে ওঠে মুহূর্তটি। 

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে সাহিল লেখেন, ‘‌জীবনে এমন কিছু দিন থাকে যেগুলো ভোলা যায় না। আজকের দিনটি তেমনই। যাঁকে মঞ্চে দেখি, তিনি চোখের সামনে আছেন। কয়েক মিনিটের বাক্যালাপে তাঁর বিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি।’‌ মাত্র ১০ মিনিটের অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ তাঁকে বুঝিয়েছে, নেতৃত্ব মানে শুধু পদ নয়, মানুষের সঙ্গে সংযোগও বোঝায়। 

এর আগে গুগলের গুরগাঁও অফিসেও এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছিলেন তরুভার মিত্তল নামে এক কর্মী। তাঁর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, পিচাই কর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, ক্যাম্পাসে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলছেন। পুরো পরিবেশটাই ছিল স্বাভাবিক ও আন্তরিক। 
সেই সফরে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার শুভমান গিল। তিনি পিচাইকে নিজের ব্যাটিং স্টাইল দেখান এবং শট খেলার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। প্রযুক্তি ও ক্রিকেট–দুটি ভিন্ন জগতের দুই পরিচিত মুখকে একসঙ্গে দেখে কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস। গুগলের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর কাজ করেও অনেকেই সিইওর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না। সেখানে মাত্র পাঁচ দিনের সফরে সাহিলের এই অভিজ্ঞতা যেন ভাগ্যের এক মধুর চমক। 

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়–নেতৃত্বের আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে সরলতা ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতায়। কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলো আসে একদম অপ্রত্যাশিতভাবে, একটি সাধারণ সাইকেল রাইডের মধ্য দিয়েও।