আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত সদ্য প্রকাশিত মার্কিন বিচার দপ্তরের নথি দেখে আঁতকে উঠছে গোটা বিশ্ব। প্রায় ৩৫ লক্ষ পাতায় এপিস্টনের সম্পর্কিত শিউরে ওঠা তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে রয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে বহু বার। তালিকায় আর কার কার নাম রয়েছে, এই মুহূর্তে যেমন চর্চা তা নিয়ে, তেমন চর্চায় এপিস্টনের দ্বীপে কী কী শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটেছে দিনের পর দিন, তা নিয়েও। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপিস্টনের ওই প্রমোদ দ্বীপে যা চলত, তা জেনে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপিস্টনের ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং সেখানে ঘটে চলা নারকীয় ঘটনাবলী নিয়ে কেবল চর্চা নয়, আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে।

এর মাঝেই সামনে এসেছে শিউরে ওঠা তথ্য। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লিখিত, এপস্টিনের পরিচিত এক মহিলা সেইসব দিনের শিউরে ওঠা নানা ঘটনাবলী জানিয়েছেন ওই সংবাদ মাধ্যমে। জানা গিয়েছে, তাঁর নাম, রিনা ওহ। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টিনের নারকীয় অত্যাচারের শিকার তিনি নিজে। অভিশপ্ত, ভয়াবহ সেই সময়ের কথা তিনি স্মরণ করেছেন। ভাগ করে নিয়েছেন সংবাদ  মাধ্যমের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে এপস্টিন বছরের পর বছর তাঁর উপর নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছিলেন। তাঁকে ব্যবহার   করেছিলেন লাগাতার, সেই অভিযোগও করেছেন তিনি। 

ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা জানানোর সময়, রিনা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তার  মাধ্যমে আলাপচারিতা শুরু করেন এপস্টিন। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক গড়ন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য শারীরিক  গঠনে কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেসব বলতেন তাঁকে বারবার।  রিনা জানিয়েছেন, যে সময়ের  কথা তিনি জানাচ্ছেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২১। কিন্তু ওই বয়সের এক যুবতীকে এপস্টিন নানা সময়ে বয়স্ক বলে অভিহিত করতেন। 

প্রতিবেদনে উল্লিখিত, রিনা জানিয়েছেন, একটা সময়ে পরিস্থিতি এমন হয় যে, তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁর চারপাশের পরিস্থিতি ঘোর অন্ধকার এবং তিনি ওই পরিস্থিতি থেকে আর কিছুতেই বেরোতে  পারবেন না। 

কোথায় তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের আলাপ? জানিয়েছেন ফ্লোরিডায় ঘুরতে গিয়ে, তাঁর আলাপ হয় এপস্টিনের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে একজন মহিলাও ছিলেন। তিনি তাঁকে সব কথা ভয়ে বলে ফেলেন এবং তাতে ঠিক উলটো ঘটনা ঘটে। ফলে, এপস্টিনের কাছে পৌঁছে যায় সেসব কথা। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি নিজের প্রয়োজনে এপস্টিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর কোনও ধারণা ছিল না, তাঁর সঙ্গে কী ঘটতে চলেছে। সাহায্য চাইতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হবেন।তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ধারণ, এপস্টিন আরও বহু মানুষের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। মহিলা জানিয়েছেন, শেষবার তিনি যখন এপস্টিনকে দেখেন, তখন তিনি হিংসাত্মক হয়ে ছিলেন। তারপর তিনি আর কখনও এপস্টিনের কাছে যাননি বলেও দাবি করেছেন।