আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে মার্কিন টেনশনের জের। এবার বাড়তে পারে ক্রুড তেলের দাম। শুক্রবার এমসিএক্স ক্রুড তেলের ট্রেডিং ছিল ৬ হাজার ৫০ টাকা প্রতি ব্যারেল। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৩ শতাংশ বেশি। এর বর্তমান দাম রয়েছে ৭১,৯৯ মার্কিন ডলার। ফলে ইরান-মার্কিন টেনশন যত বাড়বে ততই তেলের দাম ফের নতুন উচ্চতায় চলে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে সহজে বেরিয়ে আসা যাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিশ্ববাজারে কাঁচা তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ লেভেলের কাছে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্ধশত একাধিক দেশ ও অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্র্অ ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উদ্বেগ ও উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 


মূল কারণগুলো হল:
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েছে যাতে তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখায়; যদি তা না হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। এতে বাজারে সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষ বা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% সরবরাহ এই সরু জলপথের মধ্য দিয়ে ঘটে, যা মুলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি হয়। ইরান এই চোকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে, তাই সেখানে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভুল তথ্য বা সামরিক সংঘাতের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলতে বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তেলের মজুদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে — এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গিয়েছে, যা বাজারে জ্বালানির চাপ বাড়াতে সাহায্য করেছে। 


গোল্ডম্যান স্যাকসের মত বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখন আরও বেশি অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত, এবং তেলের দাম আরও উপরে উঠতে পারে যদি কোনও বড় গ্লোবাল সাপ্লাই বিঘ্ন ঘটে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা আসবে, যা দামকে আরও উর্ধ্বমুখী করতে পারে। 

&t=1s


এই মুহূর্তে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধুমাত্র সরবরাহ বা চাহিদার কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ঘটছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা সামনের সপ্তাহগুলোতে এই খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।