আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু আদালতের এত বড় রায়ের পরেও কার্যত ভাবলেশহীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সাফ জানিয়ে দিলেন, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বহাল রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘অসাধারণ’।

ওয়াশিংটন এবং দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করছি। ভারত রাশিয়া থেকে তেল নিচ্ছিল, কিন্তু আমার অনুরোধে তারা তা অনেকটাই কমিয়েছে। আমরা সেই ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান চাই, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।’

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে ভারত–মার্কিন চুক্তিতে প্রভাব পড়বে কি না, এই প্রশ্নে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন ‘কিছুই বদলাবে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘তারা শুল্ক দেবে, আমরা দেব না। আগে উল্টোটা ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময়ে খুব বুদ্ধি দেখিয়েছেন। ফলে, আমাদের ক্ষতি হচ্ছিল। এখন দুই দেশের মধ্যে একটি ন্যায্য চুক্তি হয়েছে। আমরা শুল্ক দিচ্ছি না, তারা দিচ্ছে। আমরা শুধু পুরো বিষয়টা উল্টে দিয়েছি।’

শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি বহাল আছে। সব চুক্তিই থাকবে, আমরা শুধু ভিন্ন উপায়ে তা বাস্তবায়ন করব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এদিন ফের দাবি করেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ তিনিই থামিয়েছিলেন শুল্কের চাপ প্রয়োগ করে।

ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘আমি ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধও থামিয়েছি। সকলেই ওই হামলায় ১০টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ দিকে যাচ্ছিল এবং তা পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে পারত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামিয়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মূলত শুল্কের মাধ্যমেই এটা করেছি। আমি বলেছিলাম দেখুন, আপনারা যুদ্ধ করতেই পারেন, কিন্তু তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন না। প্রতিটি দেশকে ২০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এরপরেই তারা ফোন করে জানায় যে তারা শান্তি স্থাপন করেছে।’

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপানো অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ বাতিল করে দিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, ঢালাও শুল্ক বসিয়ে আসলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।

জরুরি অবস্থার জন্য তোলা থাকা একটি আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই কর চাপিয়েছিলেন, যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ। ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে ট্রাম্প যে শুল্ক নীতি চালু করেছিলেন, ৬-৩ বিচারপতির রায়ে তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ওপর কর বা শুল্ক বসানোর অধিকার একমাত্র কংগ্রেসের (মার্কিন সংসদ)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধান নির্মাতারা কর আদায়ের চাবিকাঠি সংসদের হাতেই দিয়ে গিয়েছেন।

শান্তিকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছা মত এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যদি কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে এই বিশেষ ক্ষমতা দিতে চাইত, তবে আইনে তার পরিষ্কার উল্লেখ থাকত।

এদিকে আদালতের রায়কেই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিন রক্ষণশীল বিচারপতিও। তবে ব্রেট কাভানা, ক্লারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো- এই তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ট্রাম্পের পক্ষেই সওয়াল করেছেন।