আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই বিতর্ক শুরু হয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে। যেখানে দাবি করা হয়—প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে গিয়ে মার্কিন কমান্ডোরা এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যা ভেনেজুয়েলার বাহিনীকে মুহূর্তে অচল করে দেয়।


হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এই বিবরণটি এক্সে শেয়ার করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। বিবরণে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তি কাজ শুরু করতেই ভেনেজুয়েলার রাডার সিস্টেম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং আকাশে অসংখ্য ড্রোন উড়তে দেখা যায়।


নিউ ইয়র্ক পোস্টে উদ্ধৃত ওই প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, মার্কিন কমান্ডো ছিল খুবই স্বল্প—মাত্র ‘২০ জনের মতো’ সেনা ও ‘আটটিরও কম’ হেলিকপ্টার। তবুও তারা খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।


এরপরই আসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ। সেখানে এক রহস্যময় যন্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এক সৈন্য বলেন, “ওরা কিছু একটা ছুঁড়ল—কি বলব বুঝতে পারছি না। খুব তীব্র শব্দ তরঙ্গের মতো। মুহূর্তে মনে হচ্ছিল মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাচ্ছে।”


তিনি দাবি করেন, ওই অস্ত্রের প্রভাব ছিল ভয়ঙ্কর, “আমাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে লাগল, কেউ কেউ রক্ত বমি করছিল। আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম, উঠতেই পারছিলাম না। যেন শরীর কাজ করা বন্ধ করে দিল।”


হোয়াইট হাউস এই বিবরণ শেয়ার করলেও এর সত্যতা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ৩ জানুয়ারির অভিযানে তাদের প্রায় ১০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছে। তবে তাদের মৃত্যুর সাথে এই অস্ত্রের সম্পর্ক আছে কিনা তা অজানা।

 


এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, বিবরণটি ‘ডাইরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন’-এর মতো শোনাচ্ছে—যেখানে মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মতো শক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু অক্ষম করা যায়। এই অভিযান শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, গোটা লাতিন আমেরিকায় ঝড় তুলেছে। 

এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার খেলাটি কিন্তু পিছন দিক থেকে চালিয়ে গিয়েছেন। যদিও তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ইতিমধ্যে এটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে বিরাট বিতর্ক। সকলেই এখন মার্কিন প্রশাসনকে ধিক্কার দিচ্ছেন।