আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হামলা 'কমিয়ে আনার' আবেদনেও কাজ হল না। সংক্ষিপ্ত বিরতির পরই লেবাননের অন্তত দু'টি শহরে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালাল ইজরায়েল। ফলে প্রশ্নের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতি।
লেবানন থেকে ইরানের হয়ে কাজ করছে হিজবুল্লা জঙ্গিরা। এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই হামলা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে "লঙ্ঘন" করল ইজরায়েল। এর পাল্টা ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলের একটি শহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লা জঙ্গিরা। এই জঙ্গি ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি জানায়, শুক্রবার তারা ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তের কাছে অবস্থিত 'কিরিয়াত শমোনা' এবং উত্তর ইজরায়েলের 'আপার গ্যালিলি' অঞ্চলের 'মিসগাভ আম' লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়েছে।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লা জঙ্গিরা বলেছে, "আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি
সামরিক তৎপরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। তেহরান জোর দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তার আওতায় লেবাননেও যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত বন্ধ থাকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইজরায়েল এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও তেহরানের এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (রিভল্যুশনারি গার্ড) ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' দাবি করেছে যে, লেবাননে সংঘাত যদি অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তবে আলোচনা প্রক্রিয়া "স্থগিতই থেকে যাবে"।
১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইজরায়েল ও লেবানন কার্যত একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তাদের দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি নেই। তবে গত বুধবার লেবাননে ইজরায়েল যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল, যা মার্চ মাসের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণের পর থেকে ইজরায়েলের চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা,এবং এই যুদ্ধের জেরে তাতে শত শত মানুষ নিহত হয়। এই হামলার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সেই ঠুনকো যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।















