আজকাল ওয়েবডেস্ক: নামমাত্র যুদ্ধবিরতি! এখনও পশ্চিম এশিয়ায় বারুদের গন্ধ। এখনও কমেনি যুদ্ধের ঝাঁঝ। প্রাণহানিও অব্যাহত। এবার কী করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তাঁর সামনে আর তিনটি পথ খোলা রয়েছে। 

 

গতকাল ইরানের সঙ্গে দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই লেবাননে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা করেছে ইজরায়েল। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিতেও হামলা করেছে ইরান। 

 

এবার জল্পনা শুরু হয়েছে, দু'সপ্তাহের আগেই হয়তো যুদ্ধবিরতি উঠে যেতে পারে। এই আবহে ট্রাম্পের সামনে তিনটি রাস্তা খোলা রয়েছে। সেগুলো কী কী? প্রথমত, ট্রাম্প ফের যুদ্ধ শুরু করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়া। তৃতীয়ত, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা। 

 

যুদ্ধবিরতির আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা শর্ত দিয়েছিল ইরান। কিন্তু এর পরেই লেবাননে ভয়ঙ্কর হামলা করে ইজরায়েল। এখন ইরানের দাবি, আলোচনার আগেই ট্রাম্প ১০টির মধ্যে তিনটি শর্ত ভেঙে দিয়েছেন। এরপরই ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। 

 

কোন তিনটি শর্ত ভাঙা হয়েছে? 

ইরানের দাবি, প্রথমটি লেবানন প্রসঙ্গে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতার সময় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, লেবানন-সহ সব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্ত মানা হয়নি। ইজরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়েছে গতকাল। 

 

দ্বিতীয়টি হল, যুদ্ধবিরতির পরেও ইরানের আকাশসীমায় সন্দেহজনক এককটি ড্রোন প্রবেশ করে। যা পরে ফার্স প্রদেশের লার এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। তৃতীয়টি হল, ইরানের পারমাণবিক অধিকার ঘিরে। তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করছে। 

 

ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার কাছে পেশ করা ইরানের ১০ দফা শর্তগুলো হল: 

১. ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনও হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি। 

২.হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়া।

৪. প্রাথমিক স্তরের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল। 

৫. দ্বিতীয় স্তরের যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

৬. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পাশ হওয়া সমস্ত প্রস্তাব বাতিল করা।

৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব প্রস্তাব বাতিল করা।

৮. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৯. পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।

১০. লেবানন-সহ সব সীমান্তেই লড়াই বন্ধ করা।