আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে আটক করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক “অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য সীমা লঙ্ঘন” বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করল ব্রাজিল। শনিবার এক বিবৃতিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেন, এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের উপর গুরুতর আঘাত এবং গোটা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে লুলা বলেন, “এই ধরনের পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা এবং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।” তিনি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে “জোরালো ও কার্যকর” প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে বলেন, ব্রাজিল আলোচনা  ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট সমাধানে মধ্যস্থতা করতে এখনও প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ১৯৮৯ সালে পানামায় মার্কিন আগ্রাসনের পর লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে মার্কিন ইতিহাসের “সবচেয়ে সফল সামরিক অভিযানের অন্যতম” বলে দাবি করেছেন। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসর্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি ছিল আমেরিকান সামরিক শক্তি ও দক্ষতার এক অসাধারণ ও অত্যন্ত কার্যকর প্রদর্শন।”

এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিল সরকার শনিবার জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকে। বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ভেনেজুয়েলার সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য শরণার্থী বৃদ্ধি। ছুটির কারণে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার বাইরে থাকলেও  প্রেসিডেন্ট লুলা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রক  জানায়, আপাতত সীমান্তে কোনও অস্বাভাবিক শরণার্থী চলাচল লক্ষ্য করা যায়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভেনেজুয়েলা থেকে আগত শরণার্থীদের জন্য ২০১৮ সাল থেকে ব্রাজিল সীমান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ব্রাজিল ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি ভেনেজুয়েলান নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়েছে মাত্র দুটি রাজ্যের রোরাইমা ও আমাজোনাস। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোরাইমার গভর্নর আন্তোনিও দেনারিয়াম জানান, মোট শরণার্থীর ৭০ শতাংশেরও বেশি রোরাইমা দিয়েই ব্রাজিলে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, যদিও সীমান্ত খোলা রয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের নাগরিকদের দেশ ছাড়তে বাধা দিচ্ছে, তবে ব্রাজিলীয় নাগরিকরা কোনও বাধা ছাড়াই সীমান্ত পারাপার করতে পারছেন। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রক  আরও জানায়, শনিবার ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা তাঁর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট লুলা সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় সশস্ত্র হস্তক্ষেপ একটি “মানবিক বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনা  ও আঞ্চলিক সহযোগিতাই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের এই অবস্থান লাতিন আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।