আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিদায়ী ভাষণেও ভারতের বিরুদ্ধে কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য অব্যাহত রাখলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। প্রায় ২৫ মিনিটের ভাষণে তিনি ভারতের সংবেদনশীল উত্তর–পূর্ব অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছিল ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ এবং সেভেন সিস্টার্স। ইউনূস দাবি করেন, বাংলাদেশ সেভেন সিস্টার্সের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে বিশাল উন্নতি করতে পারে।

তবে এই প্রসঙ্গ টেনে আনলেও একবারও ভারতের নাম মুখে আনেননি তিনি। তাঁর দাবি, সেভেন সিস্টার্স একটি আলাদা অংশ। উল্লেখ্য, গত বছর চীন সফরের সময়ও তিনি একই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

এই অঞ্চলটিকে ভারতের অংশ না বলে আলাদা অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত দীর্ঘদিন ধরে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে এসেছে।

কিন্তু ইউনুসের শাসনকালে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। সংখ্যালঘুদের খুনের ঘটনা ঘটেছে, উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ।

ইউনূস এদিন বলেন, ‘সাতটি উত্তর–পূর্বের রাজ্য, নেপাল ও ভুটানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনা এনে দিতে পারে। আমাদের উন্মুক্ত সমুদ্রসীমা কেবল সীমান্ত নয়, বিশ্বের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার।’

তাঁর এই বক্তব্যকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দিয়ে ঘেরা উত্তর–পূর্ব অঞ্চলকে লক্ষ্য করে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, সেভেন সিস্টার্সকে নিজেদের মনে করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছর চীন সফরের সময়ও তিনি ভারতের উত্তর–পূর্ব অঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে উল্লেখ করে চীনকে সেখানে প্রভাব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সে সময় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও ইউনূস তাঁর শাসনকাল নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

দেশজুড়ে হিংসার ঘটনা, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

পাশাপাশি, তাঁর প্রশাসন চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। বিদায়ী ভাষণের শেষে ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আর ‘নম্র বা পরনির্ভর’ বিদেশনীতির দেশ নয়।

যা ভারতকে খোঁচা মেরেই মন্তব্য করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে ভারতের প্রভাব ছিল।

ইউনূস বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় এবং নিজের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল। বাংলাদেশ আর এমন দেশ নয়, যার বিদেশনীতি অন্য দেশের নির্দেশ বা পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল।’