আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভাষণের পর বিবৃতি দিল বাংলাদেশ । ভারতের প্রতিবেশী দেশের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ‘অবাক’ হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং ‘পলাতক’ শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে প্রকাশ্যে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা আগস্ট ২০২৪ সালে ভারতে চলে আসেন। বাংলাদেশের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে তাঁর ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়।

শুক্রবার তিনি দিল্লির একটি প্রেস ক্লাবে অডিও ভাষণে তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা দেন। ঢাকায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে একটি জনসম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ অবাক ও শোকাহত।’

তবে এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, হাসিনাকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া ‘একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে। যা ‘দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’

মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘ভারতের রাজধানীতে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া এবং গণহত্যাকারী হাসিনাকে উন্মুক্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া, এটা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অসম্মান।’

সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ যে ভারত এখনও দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়টি সম্পন্ন করেনি।

বাংলাদেশ সরকারের বারবার অনুরোধের পরও তাকে ভারতীয় মাটিতে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।’

উল্লেখ্য, অডিও ভাষণে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশ কখনওই স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে, তবে নয়াদিল্লির তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত নভেম্বরে ঢাকার আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন। উসকানিমূলক কার্যকলাপ, হত্যার নির্দেশ এবং নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন রয়েছে। শেখ হাসিনার পর অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ইউনূস। এবার নতুন নেতা নির্বাচন করবে বাংলাদেশের আমজনতা।