আজকাল ওয়েবডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় ছাত্রের উপর নৃশংস হামলার একদিন পর, মেলবোর্নের একটি স্বামিনারায়ণ মন্দির ও দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয় ঘৃণাজনিত গ্রাফিতি আঁকা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‘দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে’ জানিয়েছে, মেলবোর্নের বোরোনিয়ার ওয়াধার্স্ট ড্রাইভে অবস্থিত স্বামিনারায়ণ মন্দিরের গায়ে অ্যাডলফ হিটলারের ছবি ও “Go Home Brown C**T” লেখা স্প্রে-পেইন্ট করে দেওয়া হয়েছে। একই বার্তা কাছাকাছি দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয়ও দেখা গেছে। এই ঘটনাগুলি এখন বর্ণবিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্তাধীন।
ভিক্টোরিয়া শাখার হিন্দু কাউন্সিলের সভাপতি মকরন্দ ভগবৎ বলেন, “আমাদের মন্দির শান্তি, ভক্তি ও ঐক্যের প্রতীক। সেখানে এমন বার্তা ও চিত্র দেখে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এটা শুধু আমাদের ধর্মীয় স্থানে হামলা নয়, আমাদের অস্তিত্ব ও বিশ্বাসের উপর আঘাত।” ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জ্যাসিন্তা অ্যালান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, “এটা নিছক ভাঙচুর নয়, বরং ঘৃণা ও সন্ত্রাস ছড়ানোর উদ্দেশ্যে চালানো এক হিংসাত্মক বার্তা।” তিনি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে একটি পার্কিং সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় যুবক, চরণপ্রীত সিং-এর উপর বর্ণবিদ্বেষী হামলার অভিযোগ ওঠে। তিনি জানান, স্ত্রীসহ গাড়িতে বসে থাকার সময় একদল ব্যক্তি এসে বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করে তাঁর মুখে একাধিক ঘুষি মারে। তাঁর মুখমণ্ডলে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ ২০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে সিং-কে ধাতব বক্সার দিয়ে মারতে দেখা যায়। আক্রমণকারীদের ‘F**k off, Indian’ বলতে শোনা গেছে। হাসপাতাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ৯নিউজ-কে চরণপ্রীত বলেন, “গাড়ি পার্কিং-এর বিতর্ক কয়েক মুহূর্তে একটি হেট ক্রাইমে পরিণত হলো। আপনি শরীরের অনেক কিছু পাল্টাতে পারেন, কিন্তু গায়ের রঙ পাল্টাতে পারেন না।” উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ধরনের হামলা অস্ট্রেলিয়ায় নতুন নয়। ২০০৯-১০ সালে একাধিক ভারতীয় ছাত্রের উপর বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে। সেসময় মেলবোর্ন ও সিডনিতে একাধিক ভারতীয় যুবককে ট্রেনে, রাস্তায়, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরিস্থিতি যে আজও বদলায়নি, তা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠল সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে। প্রবাসী ভারতীয়রা আরও কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।
