আজকাল ওয়েবডেস্ক: কী ভয়ঙ্কর দশা পাকিস্তানে।‌ চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম গাফিলতির ভয়ঙ্কর দুর্দশা এবার প্রকাশ্যে এল। হাসপাতালে এক সিরিঞ্জ ব্যবহার করার জেরে তিন শতাধিক শিশু এইডস আক্রান্ত। 

 

আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তৌনসা শহরের টিএইচকিউ হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে মহম্মদ আমিন নামের এক শিশুর মৃত্যুর পরই বিষয়টি সামনে আসে। দিন কয়েক আগেই জানা যায়, ওই শিশুটি এইচআইভি আক্রান্ত। 

 

রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক দিন পরেই ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আট বছরের শিশুর মা জানিয়েছেন, শেষ কয়েকদিনে জ্বর ও তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিল সে। এর কয়েক দিন পরেই তার বোনের শরীরেও এইচআইভি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই হাসপাতালে এক সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। 

 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই শহরের এক চিকিৎসক লক্ষ করেন, এলাকার বহু শিশুর মধ্যে এইডস সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ৩৩১ জন শিশু এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'বিবিসি'র করা একটি ভিডিওটিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ওই ভিডিওটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। ৩২ ঘণ্টার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে এক সিরিঞ্জ ব্যবহার করে একাধিক রোগীকে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। 

 

দেখা গেছে, মাল্টি-ডোজ ওষুধের ভায়ালে ওই বহু ব্যবহৃত সিরিঞ্জ রাখা হচ্ছে। এমনকী সেই ভায়ালটিও খোলা অবস্থায় রেখে দিচ্ছেন হাসপাতালের এক কর্মী। এমনকী হাসপাতালের কর্মী, নার্সরাও অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রোগীদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেন‌। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তাঁদের হাতে গ্লাভস দেখা যায়নি। 

 

'বিবিসি'র ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরেই ওই হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডক্টর কাসিম বুজদার এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্ভবত ঘটনাটি তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ঘটেছে।