আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোগী অসুস্থই হননি। অথচ হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। আইসিইউ-তে রাখার প্রয়োজন নেই, তবুও রেখে দেওয়া হচ্ছে রোগীকে। কেন? জানা গিয়েছে, বিল বাড়াতে এই কীর্তি। হাসপাতালের 'ভেতরের' দুর্নীতি টের পেয়ে চাকরির প্রথমদিনেই ইস্তফা দিলেন নবাগতা চিকিৎসক।
চিকিৎসক নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, স্রেফ রোগীদের হাতে মোটা অঙ্কের বিল ধরাবে বলে এক নামী বেসরকারি হাসপাতাল অসুস্থ মানুষদের ভর্তি করে। বিনা কারণে নানান পরীক্ষা করতে দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। 'কারণ ছাড়া' আইসিইউ-তে ভর্তি করে রাখা হয়।
তিনি জানান, ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া না হওয়া ইত্যাদি সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতেন একজন সিনিয়র চিকিৎসক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও তিনি নির্দেশ দেন ভর্তি নেওয়ার জন্য। এই অস্বস্তিকর পরিবেশ দেখে এই তিনি ইস্তফা দেন। তাঁর কথায়, ‘রোগীর নিরাপত্তার চেয়ে আমার কাছে মোটা অঙ্কের বেতন কিম্বা চাকরিতে উচ্চপদ বেশি জরুরি নয়।’
চিকিৎসকের ওই পোস্ট দাবানলের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। তারপরই বহু চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ পোস্টটিতে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘চিকিৎসক হিসাবে আপনার দায়িত্ব অসুস্থকে সুস্থ করা। নিজের কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে আপনি প্রমাণ করলেন চিকিৎসক কথাটির আসল অর্থ কী।’
অনেকেই নিজের ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কমেন্ট সেকশনে। তাঁর কথায়, ‘সবাই চোর। সবাই পাপী। ফার্মা কোম্পানিগুলোর থেকে পয়সা খায়। তাই এভাবে বিনা কারণে ভর্তি নেয় হাসপাতালে।’ আর একজন ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, এরকম অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ঘটছে বহু বেসরকারি হাসপাতালে। সেই হাসপাতালগুলি ভারত সরকারের নজরদারীতে আনা উচিৎ।
একজন ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিগুলো হয় হাসপাতালগুলিতে। বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালগুলি যেভাবে হোক শুধু পয়সা চায়। আর কিছু না। মানবিকতা এদের কাছে খেলনার মতো। মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে এদের হাত কাঁপে না।’ একজনের মন্তব্য, ‘বেশিরভাগ হাসপাতালগুলি জানে কীভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে টাকা নেওয়া যায়।’















