আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোপাল এইমস-এর লিফটের ভিতর সম্প্রতি শিউরে ওঠা কাণ্ড৷ এক মহিলা কর্মীকে প্রকাশ্যে লুঠপাট করা হল। গত রবিবার এই ঘটনাটি ঘটে৷ ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে৷ সোমবার তা সামনে আসতেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের কর্মী বর্ষা সোনি। ঘটনার দিন তিনি ডিউটি চলাকালীন একাই লিফটে ছিলেন। সেই সময় মাস্ক পরা এক যুবক লিফটে ঢুকে বর্ষার সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে। লিফট তিন তলায় পৌঁছতেই যুবকটি আচমকা বর্ষার ওপর চড়াও হয়। তাঁর গলার হার ও মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। বর্ষা বাধা দিলে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে মঙ্গলসূত্র নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী।

আশ্চর্যের বিষয় হল, ঘটনার সময় লিফট চত্বরে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না। আতঙ্কিত ওই মহিলা দীর্ঘক্ষণ লিফটের সামনে বসে কাঁদছিলেন। পরে এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। থানায় অভিযোগ জানানো হলেও এখনও কোনও এফআইআর হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রবিবার নিরাপত্তার কড়াকড়ি কম থাকার সুযোগ নিয়ে ওই যুবক হাসপাতাল থেকে পালায়। মুখ ঢাকা থাকায় তাকে চিনতেও সমস্যা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভোপালের রাস্তাঘাটে অপরাধ বাড়ার পিছনে আইনের বদলকেই দায়ী করছেন অনেকে। অনেকের দাবি, নতুন আইনের সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভোপালে এই ধরনের অপরাধ এক বছরে চারগুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৩৯টি মামলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা ১৬৫ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কড়া সাজার ভয় চলে যাওয়ায় অপরাধীরা এখন অনেক বেশি বেপরোয়া।

অন্যদিকে, ভোপালের রাজপথে দিনের আলোয় শিউরে ওঠা কাণ্ড। এক যুবককে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতুড়ি ও সাবল দিয়ে পিটিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় হুলুস্থুল চারিদিকে। অভিযোগ, পথচারীরা যখন মোবাইলে ভিডিও তুলতে ব্যস্ত, তখন জনসমক্ষেই ওই যুবককে নৃশংসভাবে মারধর করে পালিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী।

পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত যুবকের নাম কুলদীপ সিং। রবিবার বেলা ১১টা নাগাদ মাঝরাস্তায় দুটি গাড়ি দিয়ে কুলদীপের পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে শুরু হয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবকের হাত-পা লক্ষ্য করে বারবার হাতুড়ি দিয়ে মারা হয়। এমনকী তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও হামলা থামেনি। যাওয়ার আগে তাঁর গাড়িটিও ভাঙচুর করে পালায় অভিযুক্তরা।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সবাই যখন দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন কেবল এক তরুণী সাহস করে দুষ্কৃতীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কুলদীপ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কুলদীপের বিরুদ্ধে খুন ও তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। তাঁর বাগদত্তা ভোপালের এক দন্তচিকিৎসক, যাঁর সঙ্গে দেখা করতেই তিনি শহরে এসেছিলেন। পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই এই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।