আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হবে না। আগেই 'ককরোচ জনতা পার্টি' নেতৃত্বকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টের ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই "অপরাধমূলক রেকর্ড" রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৯ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছে।
এখন সমস্ত গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আর কোও পদক্ষেপ করা হবে না। পুরো বিষয়টি একানেই শেষ বলে গণ্য করা হবে ও মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে দিল্লি সরকার।
দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি এবং সেই মানসিকতা থেকেই আমরা এই নির্দেশ জারি করেছি। আমাদের সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। তবে, অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন কোনও ব্যক্তি যদি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
২০ জুলাই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করার পর এইসব গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো ঘটেছিল।
যন্তর মন্তর থেকে সিজেপি-র 'চলো সংসদ' মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। এরপর পুলিশ সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের করে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ (যার মধ্যে পেলেট গানের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত ছিল) নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে সরকার সিজেপি-র দাবিগুলো মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরে দাঁড়ানো প্রধান দাবি হলেও, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করাটাও ছিল অন্যতম প্রধান দাবি।
বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিতের দু'দিন পর সিজেপি জানায় যে, পুলিশি মামলা প্রত্যাহারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দেয় যে, সরকার যদি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে, তবে তারা আবারও রাস্তায় নামবে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যেন তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ না করে এবং যাদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের মুক্তি দেয়।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী আইন সংশোধনের একটি বিলও লোকসভায় পাশ হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
















