আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেছিলেন, ‘এবার ভারত যদি মিথ্যে অজুহাতে পাকিস্তানে হামলা করার সাহস দেখায়, তাহলে কলকাতা পর্যন্ত বিষয়টা গড়াবে।’
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাজনাথ সিং। তিনি পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। প্রায় ৫৫ বছর আগে ওদের ফল ভুগতে হয়েছিল। তখন পাকিস্তান দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।’
এরপর রাজনাথ আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সতর্ক করেন, ‘যদি ওরা বাংলার দিকে নজর দেয়, তাহলে এবার পাকিস্তান কত টুকরোয় ভাগ হবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।’
উল্লেখ্য, খাওয়াজা আসিফ আরও জানিয়েছিলেন, ‘ভারত যদি আমাদের দেশে ঢুকে কাউকে মারার পরিকল্পনা করে, তবে আমরাও আর চুপ থাকব না। আমাদেরও ভারতের ঘরে ঢুকে মারার ক্ষমতা আছে।’
শনিবার আসিফ আরও দাবি করেন, ভারতে নাকি শীঘ্রই হামলা হতে পারে। তবে এই ষড়যন্ত্র ভারত নিজেই করেছে। মিথ্যে অজুহাতে এই হামলা করে, গোটাটাই সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করবে ভারত।
যদিও এই বিষয়ে তিনি কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর আরও বক্তব্য, ‘যদি ভারত এমন পরিকল্পনা করে থাকে, তাহলে গত বছরের চেয়েও বড় অপমানের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। এবার যুদ্ধ আর ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাদের ঘরে ঢুকে হামলা চালাব।’
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরেই ভারত-পাকিস্তানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যায়।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহে দেশের একাধিক শহরে ব্ল্যাক আউট, হাই অ্যালার্ট জারি ছিল। অবশেষে ১০ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে ভারত ও পাকিস্তান। কিন্তু তারপরেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জারি ছিল ভারতের সেনাবাহিনীর।
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর গত জুলাই মাসে ‘অপারেশন মহাদেব’ -এর মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিন জঙ্গিকে খতম করে সেনাবাহিনী। এর কয়েকদিন পরেই কাশ্মীরের কুলগাম এলাকায় ‘অপারেশন অখল’ চালিয়েছিল সেনা। গুলির লড়াইয়ে সেখানে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর।















