আজকাল ওয়েবডেস্ক:  পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেশের প্রতিটি থানায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ পালনে কেন্দ্রীয় সরকারের ঢিলেমি দেখে এবার চরম উষ্মা প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেন এখনও বহু থানায় সিসিটিভি কাজ করছে না, সেই জবাব দিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, চিনা সংস্থার তৈরি সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি থানা থেকে সরিয়ে ফেলার তোড়জোড় চলছে। এই বিষয়ে আদালত প্রশ্ন করলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজা ঠাকরে জানান, এই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা এখনও জারি করা হয়নি। কেন্দ্রের এই অস্পষ্ট উত্তরে অসন্তুষ্ট হয়ে আদালত আগামীকালই স্বরাষ্ট্র সচিবকে তলব করেছে। বিচারপতিরা মনে করছেন, আদালতের নজরদারিতে চলা এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র সচিবের উপস্থিতি এবং সক্রিয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

&t=1s

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১১ জন বন্দির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই জনস্বার্থ মামলাটি শুরু করে। দেখা গিয়েছিল, ওই থানাগুলিতে হয় সিসিটিভি ছিল না, অথবা থাকলেও তা কাজ করছিল না। এদিন শুনানির সময় মামলাটির ‘অ্যামিকাস কিউরি’ তথা প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে জানান, কেরল রাজ্য এই সিসিটিভি পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সবথেকে উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যা শুনে বিচারপতি নাথ মন্তব্য করেন, কেরালা যদি সফলভাবে এটি করতে পারে, তবে বাকি রাজ্যগুলো কেন তা অনুসরণ করছে না? কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক রাজ্যই কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে, তবুও কাজের মন্থর গতিতে শীর্ষ আদালতের ধৈর্য যে বাঁধ ভেঙেছে, তা রবিবারের এই কড়া নির্দেশে স্পষ্ট। এখন দেখার, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র সচিবের হাজিরার পর সিসিটিভি নিয়ে কেন্দ্র কী রূপরেখা পেশ করে।