আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষা হোক বা গরমের সময়, গ্রাম হোক বা শহর—অনেকেই বাড়ির আশপাশে সাপ দেখা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, সাপ আসলে কেন বাড়ির দিকে আসে? কী তাদের টানে? আর বাড়ির কোন কোন জায়গায় তারা লুকিয়ে থাকতে পারে? বিষয়টি বুঝতে পারলে আতঙ্ক কমবে, সতর্কতা বাড়বে।
সাপকে কী টানে বাড়ির দিকে?
খাবারের প্রাচুর্য: সাপ মূলত ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, ছোট পাখি বা ডিম খেয়ে বাঁচে। বাড়িতে যদি ইঁদুরের উপদ্রব থাকে, শস্য বা খাবার খোলা থাকে, তবে তা সাপকে আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে ধান, গম বা চালের গোডাউন, মুরগির খামার বা পোষা পাখির খাঁচা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
আর্দ্র ও ঠান্ডা পরিবেশ: সাপ শীতল-রক্তের প্রাণী। তাই গরমে তারা ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে জায়গা খোঁজে। বাড়ির নিকাশি নালা, জলের ট্যাংকের আশপাশ, বাগানের ঘন ঝোপঝাড়—এসব জায়গা তাদের জন্য আরামদায়ক।
নিরাপদ আশ্রয়: নিরিবিলি, কম আলোযুক্ত, কম যাতায়াত হয় এমন জায়গা সাপের পছন্দ। নির্মীয়মাণ বাড়ি, ফাঁকা ঘর, ভাঙাচোরা দেয়ালের ফাঁক—এসব জায়গা তাদের নিরাপদ মনে হয়।
ভারতে সাধারণত যেসব বিষাক্ত সাপ বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে Indian cobra, Common krait, Russell’s viper এবং Saw-scaled viper। এদের অনেকেই মানুষের বসতির কাছাকাছি এলাকায় খাবারের সন্ধানে চলে আসে।

বাড়ির কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে সাপ?
কাঠ, ইট বা আবর্জনার স্তূপে: বাড়ির পাশে যদি পুরনো কাঠ, ইট, টিন বা আবর্জনা জমে থাকে, সেগুলোর ফাঁকে সাপ সহজেই লুকোতে পারে।
ঝোপঝাড় ও বাগানে: ঘন গাছপালা, আগাছা, ফুলের টবের নিচে বা পাথরের আড়ালে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এদের চলাচল বাড়ে।
নর্দমা ও ড্রেনের ভিতরে: খোলা ড্রেন বা ভাঙা নালার ভিতর দিয়ে সাপ বাড়ির ভিতরেও ঢুকে পড়তে পারে।
রান্নাঘর ও স্টোররুমে: যেখানে খাবার মজুত থাকে এবং ইঁদুরের উপদ্রব আছে, সেখানে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি বেশি।
বিছানার নিচে বা আলমারির পিছনে: ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়লে সাপ সাধারণত অন্ধকার ও নিরিবিলি জায়গায় লুকায়।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন, আগাছা কেটে ফেলুন। খাবার ও শস্য বন্ধ পাত্রে রাখুন। ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন। দেওয়াল বা মেঝের ফাঁক-ফোকর মেরামত করুন। রাতে বাইরে বের হলে টর্চ ব্যবহার করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সাপ দেখলে নিজে ধরার চেষ্টা করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বনদফতর বা সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাপ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তারা ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
