আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতের বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। শেয়ার বাজারে সোমবার থেকেই ধস নেমেছে। বাড়ছে সোনা, রুপোর দাম। ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সংকটে এবার ভারতের বাণিজ্য।‌ 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের চাল রপ্তানি ধাক্কা খেতে পারে। পশ্চিম এশিয়াতে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে বাসমতি চাল রপ্তানি করে। কিন্তু, এই মুহূর্তে রপ্তানি থমকে গিয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে চাল রপ্তানিতে প্রায় ৫০ হাজার কোটির ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে ভারত। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পশ্চিম এশিয়ার পাশাপাশি আমেরিকা ও ইউরোপেও বাণিজ্য হয় ভারতের। 

 

পশ্চিম এশিয়ায় ভারত থেকে বাসমতি চাল রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ আসে পঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে। তার মধ্যে মধ্যে ৩৫ শতাংশ হরিয়ানা, আর ৪০ শতাংশ পঞ্জাব। বিশ্বের বৃহত্তম বাসমতি চাল রপ্তানিকারক দেশ হল ভারত। বছরে প্রায় ৬০ লক্ষ টনেরও বেশি রপ্তানি করে। যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। 

 

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও ভারত প্রায় ৬০ লক্ষ টন বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে। পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে বাসমতি চালের চাহিদা বেশি থাকে। ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও আমেরিকায় মূলত রপ্তানি হয়। এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্য ব্যাহত হতে শুরু করেছে ভারতে। এর জেরে বাসমতি চালের দামও কমতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রতি কেজিতে ৪-৫টাকা দাম কমেছে বাসমতি চালের। ফলে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন কৃষকরা। 

 

শনিবার ইরান ও ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। এই সংঘাতেই নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। যুদ্ধের জন্য বন্ধ রয়েছে ইরানের হরমুজ প্রণালী। এর জেরেই বাড়তে চলেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশ্বের একাধিক দেশের মতোই ভারতের বাজারেও অগ্নিমূল্য হতে চলেছে একাধিক জিনিস। 

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দর এখনকার চেয়ে ৫৭% পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। 

ভারতের বার্ষিক চাহিদার ৫০% অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। যেজন্য প্রণালী বন্ধ বলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়বে ভারত। 

 

ভারতে শুধু চলতি বছরে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এসেছে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

এই যুদ্ধের জেরে সোমবার, সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও ছিল। শেয়ার সূচকে ধস এবং সোনা, রুপোর দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ। 

 

ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে সোমবার শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে। আজ সকাল সাড়ে নয়'টায় এসএন্ডপি বিএসই সেনসেক্স ৮৮৪.৩৫ পয়েন্ট কমে ৮০,৪০২.৮৪ হয়েছে। এনএসই নিফাই৫০ ২৬৭.৪৫ পয়েন্ট কমে ২৪,৯১১.২০ এ দাঁড়িয়েছে। এদিন সোনার দামেও প্রভাব পড়েছে। আজ ভারতে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট সোনার দাম ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা। ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮৬০ টাকা। 

 

কিছুদিনের মধ্যেই ভারতে বাড়তে পারে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ও রান্নার গ্যাসের দাম। ভারতে এলপিজি ঢোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। পথ আটকে গেলে, এলপিজির দাম বাড়বে হু হু করে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়লে নিত্যদিনের পরিবহনের ভাড়াও বাড়বে। বাস, অটো, ট্যাক্সির ভাড়া বাড়তে পারে রাজ্যে রাজ্যে। পরিবহনে খরচ বৃদ্ধি মানেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, ওষুধ, সবজি, ফলের দাম বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বিমানের ভাড়া রেকর্ড হারে বাড়তে শুরু করেছে।