আজকাল ওয়েবডেস্ক: মজুরি বাড়ানো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, যা ক্রমেই হিংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে নয়ডায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাতেই আন্দোলনকারীরা পুলিশেল গাড়ি-সহ ইন্যান্য যানবাহনে ভাঙচুর শুরু করে, পাথরও ছোঁড়ে। বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে রণক্ষেত্র নয়ডার ফেজ-২ এলাকা।
এই ঘটনার জেরে নয়ডার বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা অবশ্যই দিতে হবে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই শ্রম আইন মেনে চলতে হবে। তবে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেসব লোকেরা শ্রমিকদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নয়ডার ফেজ-২ এলাকায় একাধিক কারখানা রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এইসব কারখানার শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের উন্নত পরিবেশের দাবিতে বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এরপরেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। নয়া ঘোষণা কার্যকরের পর শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১১,২৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,২২০ টাকা হয়েছে।
এখন নয়ডার শ্রমিকরা দাবি করছেন যে, উত্তরপ্রদেশ সরকারও যেন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করে। আন্দোলনকারীদের যুক্তি হল, একই কাজের জন্য হরিয়ানার শ্রমিকরা তাদের চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছে। শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাহীনতা, সাপ্তাহিক ছুটির অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকার বিষয়গুলো নিয়েও সোচ্চার হয়েছে।
নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের দ্রুত বিক্ষোভস্থলে পাঠানো হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ উল্লেখ করে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করছে এবং সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বলেছেন, প্রত্যেক শ্রমিকেরই একটি সম্মানজনক বেতন, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রম আইন মেনে চলতে এবং শ্রমিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের শ্রম দপ্তরকে স্থানীয় প্রশাসন এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিল্প এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।" তিনি আরও দাবি করেন যে, "প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নকশালবাদকে পুনরুজ্জীবিত করার যে ষড়যন্ত্র চলছে," সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।















