আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'প্রেমের শহর' আগ্রায় বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী। সবে চার হাত এক হয়েছে। ফুলশয্যার রাতে নববধূর ঘোমটা খুলতে গিয়েই চরম বিড়ম্বনায় স্বামী। বিয়ের প্রথম রাতে ঘোমটা তোলার সময় স্বামীর কাছে ৯০ লাখ টাকা দাবি করেন স্ত্রী! না দিলে কোনওপ্রকার শারীরিক সম্পর্কে যেতে নারাজ মহিলা। এর পরের গল্প আরও ভয়ঙ্কর।
আগ্রার বাসিন্দা গৌরব এবং কল্পনার বিয়ে হয়েছিল গত বছর ২৯ এপ্রি। কিন্তু সেই বিয়ে এক দিনও টেকেনি। গৌরবের বোন মুসকানের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, কল্পনা তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করেন এবং উল্টো তাঁকে অপমান করেন।
অভিযোগ, কল্পনা তাঁর ভাইদের সহায়তায় নিজের সমস্ত গয়না এবং তাঁর শাশুড়ির গয়নাগুলোও (পরার অজুহাতে) নিয়ে চলে যান। কল্পনা বারবার গৌরব এবং তাঁর পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন যেন তারা "স্বেচ্ছায়" ৯০ লাখ টাকা তাঁর বাবা ও ভাইদের হাতে তুলে দেন।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে কল্পনা তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে চলে যান এবং যাওয়ার সময় এই হুমকি দিয়ে যান- "৯০ লাখ টাকা দাও, নয়তো মরার জন্য প্রস্তুত থেকো।" এরপর কল্পনা আর শ্বশুর বাড়িতে ফেরেননি। কনের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা গৌরবের পরিবারকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে আসছে।
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর, কল্পনার ভাই রাহুল- তাঁর বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য মুসকানের সঙ্গে শেয়ার করেন এবং তাঁকে নির্দেশ দেন- শ্বশুর বাড়ি থেকে যেন দাবির টাকার পরিমাণ ওই অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
এর কয়েক মাস পর, (২০২৬ সালের ২৫ মার্চ) হঠাৎ করেই, কল্পনা তাঁর বাবা (নরেন্দ্র), ভাইদের (বিকাশ ও রাহুল) এবং একজন ঘটককে (মুন্না মাস্টার) সঙ্গে নিয়ে গৌরবের বাড়িতে এসে হাজির হন। তাঁরা গৌরবের পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতর আটকে রাখেন এবং তাঁদের লক্ষ্য করে অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।
অভিযোগ যে, কল্পনার পরিবার গৌরবকে ৯০ লাখ টাকা জোগাড় করার জন্য দুই ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় এবং জানিয়ে দেয় যে, সে যদি প্রাণে বাঁচতে চায়, তবে তাঁকে অবশ্যই ওই সময়ের মধ্যে টাকার ব্যবস্থা করতে হবে। গৌরবের বাবা উম্মেদ সিং- একজন ৬৭ বছর বয়সী হৃদরোগী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী—অপরাধীদের হাতে চরম অপমান ও মৌখিক লাঞ্ছনার শিকার হন। এমনকি অপরাধীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে এও মন্তব্য করে যে, "তোমাদের মরে যাওয়াই উচিত।"
অভিযুক্তরা এই ঘটনাটিকে নিছক একটি দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির গ্যাসের পাইপে কারসাজি করেছিল।
শেষপর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ওই পরিবারটিকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে, এরপরও কল্পনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রায়শই তাঁদের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তাঁরা হুমকি-ধমকি দিয়ে সেখানে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে চলেছে। ঘটক মুন্না মাস্টার নাকি স্বীকার করেছেন যে, তিনি সুপরিকল্পিতভাবে একটি ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিলেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিয়ের আয়োজনকে কাজে লাগিয়ে টাকা তোলা।
এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত চলছে।
















