আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ারের তরফে বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ফের তাদের পুরনো নাম ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড-এ ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ সাত দশকব্যাপী এই সামরিক কমান্ডটি যে নামে পরিচিত ছিল, সেটিই ফের বহাল করা হল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর তেমনটাই। তবে এই নাম পরিবর্তন ঘিরেই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। এই কমান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ভারতের একটি ভুল মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের ম্যাপে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
খবরে প্রকাশ, ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস সামরিক বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে 'ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড' করেছিলেন। সেই সময় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলী গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে এর মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নয়া সিদ্ধান্ত সেই প্রতীকী পদক্ষেপেই বদল আনল।
ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার জানিয়েছে, এই কমান্ডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে তারা এও স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাম পরিবর্তন হলেও এই কমান্ডের কাজের পরিধি, লক্ষ্য বা ভৌগোলিক সীমানায় কোনও পরিবর্তন আসবে না। আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত এই কমান্ডের আগের মতোই দায়িত্বে থাকবে।
১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যানের আমলে ইউএস প্যাসিফিক কম্যান্ড গড়ে ওঠে। এটি গঠিত হয়। এটি মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম ঐক্যবদ্ধ সামরিক বাহিনী।
ভারতের জন্য এই কমান্ডের ব্যাপক গুরুত্ব ছিল। কারণ এই সামরিক বাহিনীর মাধ্যমেই আমেরিকার সঙ্গে ভারতের যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কমান্ডের নাম থেকে 'ইন্দো শব্দটি বাদ পড়ায় দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে কটাক্ষ করেছেন। লিখেছেন, 'কোয়াড-এর কফিনে আরও একটি পেরেক?' বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, নাম থেকে 'ইন্দো' বাদ দেওয়া ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং 'কোয়াড' জোটের গুরুত্ব হ্রাসের একটি ইঙ্গিত হতে পারে।যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করছেন যে, এটি কেবলই নাম এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষার খাতিরে করা হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতিতে কোনও খামতি আসবে না।















